আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় আগরতলায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করল বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলি। ডিওয়াইএফআই, টিওয়াইএফ, এসএফআই এবং টিএসইউ-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার শিক্ষা ভবনের সামনে টেট উত্তীর্ণদের আন্দোলনের সময় পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ ওঠে।
সেই ঘটনার প্রতিবাদেই শুক্রবারের কর্মসূচি বলে সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়। ছাত্র যুব ভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলে পুলিশ মিছিলটি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশি বাধা অতিক্রম করে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আন্দোলনকারীরা প্যারাডাইস চৌমুহনি এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এবং সেখানে সভা করার প্রস্তুতি নেন। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ আন্দোলনকারীদের আটক করে।
এদিনের কর্মসূচিতে ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার টেট উত্তীর্ণদের আন্দোলনে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।
তাঁর দাবি, আন্দোলন দমন করে চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায্য দাবিকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না। সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন বিক্ষোভকারীরা।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক। তিনি বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করার ফলে সাধারণ মানুষকে যানজটের সমস্যায় পড়তে হয়। তাই এ ধরনের অবরোধ করতে দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিয়েছিল, সে প্রসঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পুলিশকে পদক্ষেপ নিতে হয় বলে জানান।
এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় টেট উত্তীর্ণদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সব জায়গার পরিস্থিতি একরকম নয়। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে আটক করেছিল। তবে একজন আন্দোলনকারীর সঙ্গে পুলিশ যে আচরণ করেছে, তা না করলেই ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগের দাবি এবং বৃহস্পতিবারের পুলিশি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবারের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় রাজধানীর পরিস্থিতিও কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।



















