নয়াদিল্লি, ২১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদনের দ্রুত তালিকাভুক্তির জন্য সোমবার সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উল্লেখ করে জরুরি শুনানির আবেদন জানান।
সিব্বল বলেন, উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর মাঝপথে দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে। তাই মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানান তিনি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষেরও বক্তব্য থাকবে এবং মামলাটি তালিকাভুক্ত হলে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে। তিনি জানান, মামলাটি দ্রুত তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে নির্বাচন কমিশনের সেই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং সংরক্ষিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে দুই গোষ্ঠীকেই আপাতত নিষেধ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, দুই পক্ষই নিজেদের স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করায় বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়া নির্বাচন চিহ্ন সংক্রান্ত ১৯৬৮ সালের আদেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় চলছে।
এরপর আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য দুই গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অপর গোষ্ঠীকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন উপনির্বাচনে প্রযোজ্য।
মমতা-নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীও দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ও পরিচয় নিয়ে নিজেদের দাবি জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মূল দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধ এখন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনায় এসেছে।
–আইএএনএস



















