গুয়াহাটি, ২০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): অসমের ধুবরি জেলার চাপারে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ৩,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। রবিবারের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজ্যের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিনিয়োগের প্রকল্পের সূচনা হল।
প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি হতে চলা এই প্রকল্প অসমের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, নির্মাণ পর্বে প্রায় ২০ হাজার এবং প্রকল্প চালু হওয়ার পর প্রায় ৫ হাজার স্থায়ী ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিক, শিল্প প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং আদানি গ্রুপের ডিরেক্টর জিত আদানি উপস্থিত ছিলেন।
চাপার তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটি অসমের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আদানি গ্রুপের প্রস্তাবিত প্রায় ৬৩ হাজার কোটি টাকার বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চারটি ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিট নিয়ে গঠিত এই প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়ার কথা। বিদ্যুৎকেন্দ্রে আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা উন্নত দক্ষতার পাশাপাশি আধুনিক পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, অসম দ্রুত উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। রাজ্যে বর্তমানে একাধিক বৃহৎ জ্বালানি প্রকল্পের কাজ চলছে। অ্যাডভান্টেজ অসম ইনভেস্টর সামিট ২.০-তে করা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির অন্যতম বড় ফলাফল হিসেবে চাপার প্রকল্পটির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে এই প্রকল্প অসমে এখনও পর্যন্ত হওয়া অন্যতম বৃহৎ একক বিনিয়োগ হতে চলেছে।
জিত আদানি বলেন, এই তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প অসমের উন্নয়নের যাত্রায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ঠিকাদার, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি জানান। অসমে বিনিয়োগ করতে পেরে এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অংশ হতে পেরে তাঁরা গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অসমে আদানি গ্রুপের বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জিত আদানি জানান, বিদ্যুৎ, বিমান পরিষেবা ও সিমেন্ট ক্ষেত্রে ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ ইতিমধ্যে প্রকল্পের রূপ নিতে শুরু করেছে।
—আইএএনএস



















