Aআগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: বিমান সংস্থাগুলির আগ্রহ এবং তারা কোন ধরনের বিমান পরিচালনা করতে চায়, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে কৈলাসহর বিমানবন্দরের পুনরুজ্জীবন ও উন্নয়ন। বুধবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান এমবিবি বিমানবন্দরের অধিকর্তা কৃষ্ণন মোহন নেহরা।
আগামী ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ এবং ‘যাত্রী সেবা অভিযান ২০২৬’ নিয়ে নিজের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে নেহরা জানান, কৈলাসহর বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়ে এক-দুটি বিমান সংস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব জমা পড়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
তিনি বলেন, কোনও বিমান সংস্থা পরিষেবা চালাতে সম্মতি দিলে বিমানবন্দরটি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিমানবন্দরের উন্নয়ন পরিকল্পনাও নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা কোন ধরনের বিমান পরিচালনা করতে চায় তার ওপর।
নেহরা জানান, কৈলাসহর বিমানবন্দরকে সর্ব-আবহাওয়া উপযোগী করে তুলতে এবং তুলনামূলক বড় বিমান পরিচালনার ব্যবস্থা করতে অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন। এ জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ২০৫ একর জমি চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দর এলাকায় পর্যাপ্ত জমি নেই বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ছোট আকারের বিমান উপযুক্ত আবহাওয়ায় ভিজ্যুয়াল ফ্লাইট রুলস বা ভিএফআর-এর মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব। তবে দৃশ্যমানতা কমে গেলে বিমান চলাচলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আরও নির্ভরযোগ্য বিমান পরিষেবার জন্য ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস) সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
আইএলএস সম্পর্কে নেহরা বলেন, এটি বিমানকে রানওয়ের সঙ্গে সঠিকভাবে সামঞ্জস্য রেখে অবতরণে সহায়তা করে এবং অবতরণের সময় পাইলটকে দিকনির্দেশ ও দূরত্ব সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে।
নেহরা বলেন, “জমি পাওয়া মাত্রই আমরা বিমানবন্দরটির উন্নয়নের কাজ করব। আগরতলা থেকে বিভিন্ন রুটে বিমান পরিষেবা কমে যাওয়া এবং বিমান ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে বিমানবন্দর অধিকর্তা জানান, পরিষেবার সংখ্যা নির্ধারণ সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, বিমান স্বল্পতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বিভিন্ন রুটে পরিষেবার সংখ্যা পরিবর্তন করেছে বিমান সংস্থাগুলি। আগরতলা বিমানবন্দর থেকে পরিষেবা বন্ধ বা কমিয়ে না দেওয়ার জন্য সমস্ত বিমান সংস্থার প্রধান নির্বাহীদের কাছে তিনি চিঠি দিয়েছেন। বিমানবন্দরের যাত্রী পরিষেবার পরিমাণের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারও বিষয়টি কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের কাছে উত্থাপন করেছে বলে জানান তিনি।
নেহরা জানান, আগরতলা-হায়দরাবাদ রুটে আগে সপ্তাহে পাঁচ দিন বিমান চলাচল করলেও বর্তমানে তিন দিন পরিষেবা রয়েছে। আগের পরিষেবা পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। দিল্লি রুটেও পরিষেবার সময়সূচিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। সপ্তাহের তিন দিন দুটি করে এবং বাকি দিনগুলিতে একটি করে বিমান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিমান পরিষেবার সংখ্যা ও ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত এটি বিমান সংস্থার বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত।” তাঁর মতে, নির্দিষ্ট রুটে বিমান পরিচালনার খরচের ওপর বিমান ভাড়ার হিসাব নির্ভর করে।
তিনি আরও জানান, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাধারণত বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম চাহিদার সময়। উৎসবের মরশুমে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
নেহরা জানান, বর্তমানে এমবিবি বিমানবন্দরে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৪টি আগমন এবং ১৪টি প্রস্থানের বিমান রয়েছে। দৈনিক যাত্রী চলাচল প্রায় ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০।
উৎসবের মরশুমে এই সংখ্যা প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অনেক সময় বিমানগুলিতে আসন পূরণের হার ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলেও জানান বিমানবন্দর অধিকর্তা।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এমবিবি বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। গ্রাহক সন্তুষ্টি সমীক্ষায় দেশের বিমানবন্দরগুলির মধ্যে এমবিবি বিমানবন্দর ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে বলেও জানান তিনি।
এমবিবি বিমানবন্দরে ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ অভিযান আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। অন্যদিকে ‘যাত্রী সেবা অভিযান ২০২৬’ চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত।
এই কর্মসূচিতে বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা, দিব্যাঙ্গজন ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সুবিধা, যাত্রী তথ্য পরিষেবা, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, পানীয় জল, ডিজিটাল পরিষেবা, মহিলা ও শিশু-বান্ধব পরিকাঠামো, সাংস্কৃতিক প্রচার, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং যাত্রী সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নেহরা জানান, ‘সার্ভিস উইথ স্মাইল’ বা হাসিমুখে পরিষেবা প্রদানই এই অভিযানের অন্যতম মূল বার্তা। তবে এই পরিষেবাগুলিকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ের অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত বিমানবন্দর পরিষেবার অংশ হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য।
























