আগরতলা, ১১ সেপ্টেম্বর: রাজধানীর ওয়েস্টার্ন ক্লাব গোলচক্করের কাছে গত ৩১ আগস্টের পথ দুর্ঘটনাকে ঘিরে নতুন মোড়। দুর্ঘটনার সময় টিএসআরের গাড়ির চালকের আসনে তিনিই ছিলেন বলে দাবি করেছেন ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের এক জওয়ান। তাঁর এই দাবির ফলে ঘটনাটি নিয়ে তদন্তে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দুর্ঘটনায় একটি বৈদ্যুতিক অটোর তিন যাত্রী আহত হয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর অভিযোগ উঠেছিল, টিএসআরের এক কমান্ড্যান্টের ব্যবহৃত গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন এক নাবালিকা এবং সংঘর্ষের সময় গাড়িটির চালকের আসনে তিনিই ছিলেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এমনকি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তা অবরোধও করা হয়েছিল।
এরই মধ্যে ঘটনায় নতুন দাবি সামনে এনেছেন আমবাসা মহকুমার কাঞ্চনছড়ার তৃতীয় টিএসআর ব্যাটালিয়নে কর্মরত জওয়ান সন্দীপ কুমার। মামলাসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর দাখিল করা একটি হলফনামায় তিনি দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট গাড়িটি তিনিই চালাচ্ছিলেন।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে মামলার তদন্তকারী আধিকারিক সাব-ইন্সপেক্টর রামব্রত ঘোষ গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্দীপ কুমারকে নোটিশ জারি করেন। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ৩৫(৩) ধারায় জারি করা ওই নোটিশে তাঁকে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য পুলিশের কাছে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে বলা হয়।
নোটিশ অনুযায়ী, নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে সকাল ১০টায় পশ্চিম আগরতলা থানায় তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হতে বলা হয়। একইসঙ্গে তাঁকে নিজের ছবি-সহ পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের জারি করা নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তে সন্দীপ কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের যুক্তিসঙ্গত কারণ পাওয়া গেছে। মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে জানানো হয়। নোটিশের নির্দেশ অমান্য করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার সময় গাড়ির চালকের আসনে তিনি ছিলেন বলে সন্দীপ কুমারের সাম্প্রতিক দাবি এখন পুলিশের তদন্তের আওতায় আসবে। তাঁর হলফনামায় করা দাবি এবং দুর্ঘটনার সময় নাবালিকা গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে ওঠা অভিযোগ—দুই বিষয়ই তদন্ত করে পুলিশ কী তথ্য সামনে আনে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত তিন যাত্রী, স্থানীয়দের প্রতিবাদ এবং চালককে ঘিরে ওঠা পরস্পরবিরোধী দাবির জেরে ঘটনাটি ইতিমধ্যেই চর্চায় এসেছে। এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে দুর্ঘটনার সময় প্রকৃতপক্ষে গাড়ির চালকের আসনে কে ছিলেন এবং কীভাবে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।


















