আগরতলা, ১১ সেপ্টেম্বর: রাজ্যে অনুমোদনবিহীনভাবে পরিচালিত বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র ও মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের উদ্যোগ নিল স্টেট মেন্টাল হেলথ অথরিটি, ত্রিপুরা। রাজ্যের মোট ১৯টি কেন্দ্র ও সংস্থার বিরুদ্ধে গত ৯ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
অথরিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে মেন্টাল হেলথকেয়ার অ্যাক্ট, ২০১৭-এর আওতায় প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা অনুমতি ছাড়াই মানসিকভাবে অসুস্থ ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন পরিষেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম নোটিশটি জারি করা হয়েছে আগরতলার উজান অভয়নগরের স্বপ্না ফাউন্ডেশন-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন ছাড়াই সেখানে মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীদের স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগও পাওয়া গেছে। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে সংস্থাটিকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।
অথরিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য জবাব না দিলে অথবা তদন্তে সহযোগিতা না করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় নোটিশ জারি করা হয়েছে আরও ১৮টি কেন্দ্র ও সংস্থার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, মেন্টাল হেলথকেয়ার অ্যাক্ট, ২০১৭-এর অধীনে বৈধ নিবন্ধন বা অনুমতি ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান মানসিকভাবে অসুস্থ ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন পরিষেবা প্রদান করছে। আইনের ধারা ৬৫(১) অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন ছাড়া কোনো মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা বেআইনি।
নোটিশপ্রাপ্ত ১৮টি কেন্দ্র ও সংস্থা হল— জীবন জাগৃতি ফাউন্ডেশন, শান্তিরবাজার; হোলি ফাউন্ডেশন, জিরানিয়া; রূপায়ণ ফাউন্ডেশন, দশমীঘাট; জেমস ফাউন্ডেশন, জম্পুইজলা; রিলিভ ফাউন্ডেশন, বাইপাস রোড, আগরতলা; হিল ফাউন্ডেশন, বাচাইবাড়ি, খোয়াই; সক্ষম রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, খুমুলুঙ; দীপ ফাউন্ডেশন, কাঞ্চনপুর; বেথেস্টা রিহ্যাব ফ্যাসিলিটি, নন্দননগর; ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, মুচাং, কমলপুর; সিরিন অ্যান্ড সোবার ফাউন্ডেশন, শালগড়া; রিলিভ ফাউন্ডেশন, এসপিও অফিস, সিপাহীজলা; রাধ্যিয়া ফাউন্ডেশন, বড়জলা, আগরতলা; রেজুভেনেশন ফাউন্ডেশন, তেলিয়ামুড়া; ইয়াপ্রি কৌতাল ফাউন্ডেশন, গাবর্দি; রিভাইভ্যাল ফাউন্ডেশন, তুলাশিখর; টিএসবি কাউন্সেলিং সেন্টার, টাকারজলা এবং এডেনসেন্ড ফাউন্ডেশন, বিশ্রামগঞ্জ।
এই ১৮টি সংস্থাকেও নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে কিংবা তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাদের বিরুদ্ধেও একতরফাভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, মেন্টাল হেলথকেয়ার অ্যাক্ট অনুযায়ী রাজ্যে পরিচালিত সমস্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রের নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি স্টেট মেন্টাল হেলথ অথরিটির নির্ধারিত নিয়ম ও মানদণ্ড মেনে এসব কেন্দ্র পরিচালনা করতে হয়।
অথরিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলিতে মোট ১২টি নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে, যা প্রতিটি কেন্দ্রকে মেনে চলতে হয়। এর মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, খাবারের গুণমান, আবাসনের উপযুক্ত পরিমাপ, প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিকাঠামো এবং জৈব-চিকিৎসা সংক্রান্ত নিরাপত্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
অথরিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বেশ কিছু পুনর্বাসন কেন্দ্র এসব নির্ধারিত মানদণ্ড ও গুণগত নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলছে না। এর ফলে রোগীদের নিরাপত্তা ও অধিকার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যেসব কেন্দ্র এখনও নিবন্ধন করেনি কিংবা নির্ধারিত মানদণ্ড ও গুণগত নিয়ম অনুসরণ করছে না, তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে মেন্টাল হেলথকেয়ার অ্যাক্ট, ২০১৭ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্টেট মেন্টাল হেলথ অথরিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।



















