ধর্মনগর, ১১ সেপ্টেম্বর: শিশুদের পছন্দের চিপস, চকলেট-সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ধর্মনগরের মহেশ্মৃতি রোডের পাইকারি বাজারের একটি ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবসা, রামকৃষ্ণ স্টোরকে ঘিরে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিকাশ ভট্টাচার্য।
অভিযোগ অনুযায়ী, রামকৃষ্ণ স্টোর থেকে উত্তর ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে চিপস সরবরাহ করা হয়। সেই সরবরাহের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ চিপস, চকলেট-সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি শিশুদের স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, রামকৃষ্ণ স্টোরের এক কর্মী শাশ্বত মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশকে কেন্দ্র করেই অভিযোগটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্ত ও খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, খাদ্যপণ্যের মেয়াদ, সংরক্ষণ এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা হয় কিনা। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে দাবি তাঁদের।
অন্যদিকে, বিকাশ ভট্টাচার্য সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। এই পরিচয়ের কোনো প্রভাব তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে পড়েছে কি না বা প্রশাসনিক কোনো ধরনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সরকারি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, খাদ্য দপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত রামকৃষ্ণ স্টোরে পরিদর্শন করে সরবরাহ করা খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ, মেয়াদ সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার পরীক্ষা করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে রামকৃষ্ণ স্টোরের মালিক বিকাশ ভট্টাচার্যের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট খাদ্য দপ্তর ও প্রশাসন কতটা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তদন্তে প্রকৃতপক্ষে কী তথ্য সামনে আসে।






















