পাটনা, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিহারের বৈশালী জেলায় বৃহস্পতিবার সকালে নির্মীয়মাণ সেতুর কাজে ব্যবহৃত একটি লঞ্চার ভেঙে পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। লোহার কাঠামোর নিচে একজন শ্রমিক আটকে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে উদ্ধারে জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বৈশালীর লালগঞ্জ ব্লকের জালালপুর গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনায় পাঁচ থেকে সাতজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মুজফ্ফরপুর জেলার বাসিন্দা বলে জানা ওই শ্রমিক লোহার কাঠামোর নিচে আটকে পড়েন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর।
উদ্ধারকারী দল পরে গ্যাস কাটার ব্যবহার করে লোহার কাঠামোর বিভিন্ন অংশ কেটে আটকে থাকা শ্রমিকের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা শুরু করে। উদ্ধারকাজ চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে জড়ো হন। গ্রামবাসীদের দাবি, উদ্ধারকারী দল পৌঁছনোর আগে তাঁরা আটকে থাকা শ্রমিককে জল খেতে দিয়েছিলেন।
জালালপুর গ্রামের কাছে গঙ্গক নদী করিডরের উপর নির্মীয়মাণ একটি ওভারব্রিজের কাজ চলছিল। নদীর প্রায় আধ কিলোমিটার আগে ওই জায়গাতেই লঞ্চারটি ভেঙে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
উদ্ধারকাজে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা বেল্ট-সহ পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনার পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থাও যথেষ্ট ছিল না বলে তাঁদের দাবি। তবে এই অভিযোগগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও, দুর্ঘটনার আগে নির্মাণ কাঠামোর কিছু অংশ বসে যাওয়ার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল বলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন। নির্মাণের গুণমান নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। এই দাবিগুলিও এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লালগঞ্জ সদর-২-এর এসডিপিও গোপাল মণ্ডল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সেখানে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার সুজিত কুমার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত হন। তাঁরা উদ্ধারকাজ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তদারকি করেন।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ নির্মাণ সংস্থার ক্যাম্পে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ। চেয়ার, টেবিল এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরে বৈশালীর সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ শুভঙ্ক মিশ্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
প্রকল্পটি প্রায় ৩৮.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক করিডরের অংশ। এই করিডরটি সারন জেলার বাকরপুর থেকে বৈশালীর লালগঞ্জ হয়ে মুজফ্ফরপুর জেলার মানিকপুরকে যুক্ত করছে।
লঞ্চার ভেঙে পড়ার কারণ এবং নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। আহত শ্রমিকদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
–আইএএনএস



















