জয়পুর, ৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজস্থানের দ্বিতীয় দফার পুরসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে বুধবার জয়পুরে রোড শো করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা। দুপুর নাগাদ সাঙ্গানেরি গেটের হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়ে খোলা জিপে রোড শো শুরু করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা রাজস্থান পুরসভা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হরিশ দ্বিবেদী, রাজ্য সভাপতি মদন রাঠোর, জয়পুরের সাংসদ মঞ্জু শর্মা এবং বিধায়ক বালমুকুন্দ আচার্য।
সাঙ্গানেরি গেট থেকে শুরু হওয়া রোড শো জহরি বাজার ও বড়ি চৌপার হয়ে ত্রিপোলিয়া গেটে গিয়ে শেষ হয়। রোড শোকে কেন্দ্র করে জয়পুরের প্রাচীরঘেরা শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজারে সাধারণ যানবাহন ও সিটি বাস চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
জয়পুরের এই রোড শো-র মধ্য দিয়ে ভজনলাল শর্মার জোরদার পুরভোট প্রচারের সমাপ্তি হল। গত পাঁচ দিনে রাজস্থানের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১০টি রোড শো করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরভোটের শেষ পর্বে বিজেপিও প্রচারের গতি বাড়িয়েছে। দলের একাধিক শীর্ষ নেতা সভা ও রোড শো করে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করেছেন।
প্রচারে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ভজনলাল শর্মা দাবি করেন, জয়পুর-সহ গোটা রাজস্থানে তাঁর সরকার ‘লাভ জিহাদ’-এর সমস্যা দূর করেছে। পাশাপাশি গত আড়াই বছরে তাঁর সরকারের বিভিন্ন কাজের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ দেখে কংগ্রেসের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগের কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ‘লুঠপাট এবং লাগামহীন লাইসেন্সের রাজনীতি’ করার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন আধিকারিক ও মন্ত্রী বর্তমানে জেলে রয়েছেন।
স্থানীয় ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থনের আবেদন জানিয়ে ভজনলাল শর্মা বলেন, স্থানীয় স্তরেও বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘ট্রিপল-ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হবে এবং উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে। তাঁর কথায়, রাজ্যে ইতিমধ্যেই যে ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকার রয়েছে, তার সঙ্গে তৃতীয় ইঞ্জিন যুক্ত হলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বিজেপি কর্মীদের প্রস্তাবিত উন্নয়নমূলক কাজ আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো-এর গাড়ির ব্যবস্থাপনায় সকাল থেকেই সক্রিয় ছিলেন বিজেপি নেতা রঘুনাথ নেরেদি। পুরভোটে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে তাঁকে মেয়র পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে মনে করা হলেও বিজেপি তাঁকে টিকিট দেয়নি। এরপরও মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো-এর ব্যবস্থাপনায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রাজনৈতিক মহলে নজর কেড়েছে।
রোড শো-এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর পূর্বমুখী হনুমান মন্দিরে যাওয়ার পাশাপাশি জয়পুরের বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিও ছিল। মন্দিরে জয়পুর ট্রেড ফেডারেশনের সভাপতি সুভাষ গোয়াল, সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাইনি, সিনিয়র সহ-সভাপতি-সহ অন্যান্য পদাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে রোড শো-এর জন্য প্রাচীরঘেরা শহরের রাস্তা বেলুন, বিজেপির পতাকা এবং ভজনলাল শর্মা, রাজ্য সভাপতি মদন রাঠোর ও উপমুখ্যমন্ত্রী দিয়া কুমারী এবং প্রেমচাঁদ বৈরওয়ার ছবি দেওয়া পোস্টারে সাজানো হয়েছিল। প্রায় এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রোড শো ত্রিপোলিয়া গেটে পৌঁছয়। সেখানে বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য একাধিক মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল।
জয়পুরে মুখ্যমন্ত্রীর এই রোড শো-এর সঙ্গে রাজস্থানের দ্বিতীয় দফার পুরভোটের প্রচারপর্ব শেষ হল। শেষ মুহূর্তে বিজেপি ও কংগ্রেস উভয় দলই ভোটারদের কাছে জোরদার আবেদন জানিয়েছে। স্থানীয় উন্নয়ন, প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতাকেই প্রচারের মূল ইস্যু করেছে দুই দল।
























