নয়াদিল্লি, ৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দিল্লিতে পাঁচতলা পিজি হস্টেল ধসে প্রাণহানি, মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় বিষাক্ত মদ পান করে মৃত্যু এবং উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে বন্যায় প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) সুপ্রিমো মায়াবতী। সোমবার এক্স-এ পোস্ট করে তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করছে যে জনস্বার্থ ও জনকল্যাণের ক্ষেত্রে সরকার এবং প্রশাসন নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মায়াবতী বলেন, দক্ষিণ দিল্লির পাঁচতলা পিজি হস্টেল ধসে পাঁচজনের মৃত্যু, মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় বিষাক্ত মদ পান করে আগের দিন ১৮ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ১৯০ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো রাজ্যে বন্যার কারণে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে সরকার ও প্রশাসন নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। তাই জনস্বার্থ ও জনকল্যাণের বিষয়ে সরকারগুলিকে অবিলম্বে আরও সতর্ক হতে হবে। আধিকারিকদের ক্রমবর্ধমান প্রাণঘাতী গাফিলতি, উদাসীনতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে, দিল্লির আবাসিক ভবন ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ছয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় পাঁচতলা ভবন ধসের ঘটনায় ভবনের মালিক হরিরাম বনসলের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার (এলওসি) জারি করেছে দিল্লি পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণ ও এর জন্য কারা দায়ী, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
রবিবার ভবন মালিক বনসল-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ভবনটি ‘পেইং গেস্ট’ (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং ধসের সময় বেসমেন্টে সংস্কারের কাজ চলছিল বলে অভিযোগ। ‘হস্টেল ডেজ’ নামে পরিচিত পাঁচতলা ভবনটিতে একাধিক ছাত্র থাকতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পাশের একটি ভবনও ধসে পড়েছে। ফলে ওই এলাকার ভবনগুলির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় কথিত বিষাক্ত মদ পান করার ঘটনায় ৮৪ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সোমবার জানিয়েছেন আধিকারিকরা। সাগরের বান্দা তহসিলে এই ঘটনায় প্রায় এক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অসুস্থ ৮৪ জনের মধ্যে ৫৯ জনকে বুন্দেলখণ্ড মেডিক্যাল কলেজে, ১৭ জনকে জেলা হাসপাতালে এবং সাতজনকে বান্দা সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকায় বেআইনি মদের বিক্রি ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসাধীনদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছে প্রশাসন।
এদিকে, বিহারের পাটনা ও সংলগ্ন এলাকায় গঙ্গা এবং তার শাখা নদী পুনপুন ও দরধার জলস্তর বৃদ্ধির কারণে বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। রবিবারও বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার জল নতুন করে সমস্যা তৈরি করে। বিহার ও উত্তরপ্রদেশের নদীগুলির অববাহিকায় ভারী বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। অব্যাহত বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
—আইএএনএস (IANS)



















