নয়াদিল্লি, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): হালদোয়ানির রামলীলা ময়দানে তাঁর সভার পর ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে রাজ্যসভার হাউস লিডার তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাকে চিঠি লিখলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। ঘটনায় ২৪ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনও এফআইআর দায়ের না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
নাড্ডার উদ্দেশে লেখা চিঠিতে খাড়গে তাঁর দেওয়া আশ্বাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উত্তরাখণ্ড সরকারকে ঘটনায় জড়িত সংগঠন ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
খাড়গে বলেন, ঘটনার ২৪ দিন পরেও দায়ীদের বিরুদ্ধে এফআইআর না হওয়ায় তিনি বিস্মিত। তাঁর অভিযোগ, যে জায়গায় তিনি জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন, ঠিক সেখানেই ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই ঘটনা ভারতের সংবিধানের চেতনা এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
কংগ্রেস সভাপতি লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ‘শুদ্ধিকরণ’-এর প্রথার সঙ্গে অস্পৃশ্যতার সরাসরি যোগ রয়েছে।
খাড়গে মহাড় সত্যাগ্রহের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাবাসাহেব ড. ভীমরাও আম্বেদকর যখন জলাধার থেকে জল পান করেছিলেন, তখন জাতপাতের অহংকারে চালিত কিছু ব্যক্তি মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে ১০৮ কলস গোমূত্র ও গোবর ব্যবহার করে ‘শুদ্ধিকরণ’ করেছিলেন। শুধু মন্ত্রপাঠ বা হোম করলেই কোনও জাতপাতভিত্তিক ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রথা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খাড়গে আরও বলেন, বিষয়টিকে শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত ঘটনা বা কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে তাঁর অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এটি বৃহত্তরভাবে সেই কোটি কোটি মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত, যারা এখনও প্রতিদিন জাতপাতভিত্তিক বৈষম্যের মুখোমুখি হন।
তিনি নাড্ডার কাছে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিকে নির্দেশ দিয়ে হালদোয়ানির রামলীলা ময়দানে কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এফআইআর নিশ্চিত করার আবেদন জানান।
গত ৮ আগস্ট হালদোয়ানির রামলীলা ময়দানে খাড়গের জনসভার পর একদল মানুষ সেখানে ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করায় বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেও বিষয়টি রাজ্যসভায় তুলে ধরেছিলেন খাড়গে। তাঁর অভিযোগ ছিল, দলিত নেতা হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণেই এই অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এমন ঘটনা গণতান্ত্রিক সমাজ ও সংবিধানের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে বিজেপি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে কোনও ‘জাতপাতের যোগ’ নেই।
এরই মধ্যে গত ৩০ আগস্ট ‘শুদ্ধিকরণ’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। বাল্মীকি সম্প্রদায়ের সদস্য অমিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা করা হয়। রাহুল গান্ধীর মন্তব্যে তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলায় তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ৩(১)(আর) এবং ৩(১)(ইউ) ধারার পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর ১৯৬ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
—আইএনএস



















