নয়াদিল্লি, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের শাখা সংগঠনের কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর রাখছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। বিশেষ করে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এবং এর শাখা নিও-জেএমবির কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই সংগঠনগুলির কার্যকলাপ এখন উগ্রপন্থায় প্ররোচনা থেকে শুরু করে অস্ত্র পাচার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এক গোয়েন্দা ব্যুরোর আধিকারিকের দাবি, আইএসআইয়ের মদতে এই সংগঠনগুলি বাংলাদেশে হিংসাত্মক ঘটনার মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও সতর্ক রয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
আধিকারিকদের আশঙ্কা, বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি করার পাশাপাশি এই গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় উগ্রপন্থায় প্ররোচনামূলক কার্যকলাপের খবর গোয়েন্দাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
অস্ত্র পাচারের বিষয়টিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এক আধিকারিকের দাবি, এই গোষ্ঠীগুলি অস্ত্রাগারে হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুট এবং পরে সেই অস্ত্র ভারতে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাচারের পরিকল্পনা করতে পারে। তবে এই ধরনের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি নজরদারি চালাচ্ছে।
বাংলাদেশে উগ্রপন্থার বিস্তার নিয়ে শুধু ভারতীয় আধিকারিকরাই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন না। বাংলাদেশের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে উগ্রপন্থার প্রবণতা বাড়ছে এবং অস্ত্রের বিস্তারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্রসংঘকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আবেদন করেছেন।
মোমেন একইসঙ্গে বাংলাদেশে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন, কারাগারে অতিরিক্ত ভিড় এবং হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের তদন্তে রাষ্ট্রসংঘের অডিটেরও দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ৪ লক্ষ বন্দিকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের না করেই আটক রাখা হয়েছে।
ভারতীয় এক আধিকারিকের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির এই কৌশল আইএসআইয়ের পরিচিত কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর দাবি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে দুর্বল করার পাশাপাশি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ওপর চাপ বাড়াতে বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাঞ্জাব সীমান্তে ভারতের বিরুদ্ধে যে ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়, বাংলাদেশ সীমান্তেও তার সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে। একই সময়ে তিনটি সীমান্তকে অস্থির রাখার চেষ্টা হলে ভারতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ভারতের উদ্বেগ শুধু জঙ্গি হামলা, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা বা অস্ত্রের বিস্তারেই সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, নিও-জেএমবির মতো গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে লক্ষ্য করে ভুয়ো প্রচার ও বিভ্রান্তিকর বয়ান ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে।
বাংলাদেশ বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশটির সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। ভারতীয় এক আধিকারিকের দাবি, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানো এবং বিশেষ করে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরির চেষ্টা হতে পারে।
—আইএএনএস



















