কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বেঙ্গালুরুতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ৩১ জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় নিয়ে আসা হয়েছে। বুধবার পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মালদা জেলার একটি হোল্ডিং সেন্টারে আপাতত তাঁদের রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, বৈধ নথিপত্র না থাকায় কর্ণাটক পুলিশ ওই ৩১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে। তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে কর্মসংস্থানের সন্ধানে বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
প্রায় তিন মাস আগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় এবং এরপর বেঙ্গালুরুর একটি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কর্ণাটক পুলিশের একটি দল তাঁদের মালদায় নিয়ে আসে।
মালদা জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে ৩১ জন আটক ব্যক্তিকে নিয়ে কর্ণাটক পুলিশের দল মালদা টাউন স্টেশনে পৌঁছয়। পরে তাঁদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বাসে করে তাঁদের জেলার একটি হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে যায়।
বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে ট্রেনে বেঙ্গালুরু থেকে মালদায় আনা হয় ৩১ জনকে। তাঁদের সঙ্গে কর্ণাটক পুলিশের ২০ জন সদস্য ছিলেন।
অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে কর্ণাটক পুলিশের বিশেষ অভিযানের পর এই গ্রেফতারি হয়। ৯ আগস্ট ‘অপারেশন মুক্ত’ নামে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযানে ২,৯৪৪ জনের নথিপত্র যাচাই করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১০৫ জনকে সন্দেহভাজন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং বেঙ্গালুরু থেকে ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩১ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তাঁদের বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে বিএসএফ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং বৈধ নথি ছাড়া ভারতে প্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সন্দেহভাজন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় আটক ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে রাখার জন্য হোল্ডিং সেন্টারও তৈরি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছেন। সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
_______



















