শিলং, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে দায়িত্ব নেওয়া, উদ্দেশ্যের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা, সমস্যার সঠিক কারণ চিহ্নিত করা এবং সমাধান খুঁজে বের করার মতো দক্ষতাই তরুণদের জন্য ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। মেঘালয়ের ‘স্পার্ক’ কর্মসূচির লক্ষ্য পড়ুয়াদের মধ্যে এই মৌলিক সক্ষমতাগুলি গড়ে তোলা। বুধবার এমনটাই জানালেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা।
‘স্কুল প্রোগ্রামস ইন আর্টিকুলেশন, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড কাইন্ডনেস’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ স্পার্ক। ২০২৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি শুরু হয়। রাজ্যের ১২টি জেলার ২৫টি সরকারি স্কুলের ৫,১৪৩ জন পড়ুয়াকে নিয়ে এর সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সহায়তায় কর্মসূচিটি সম্প্রসারিত হয় এবং ‘বেস্ট এনইপি প্র্যাকটিস’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
তুরায় আয়োজিত স্পার্ক মেঘালয়-র জেলা প্রতিভা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তন যে গতিতে হচ্ছে, শিক্ষা ব্যবস্থা সেই গতিতে পরিবর্তিত হতে পারে না।
তিনি বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থা খুব ধীরগতির। আজ কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার প্রভাব দেখা যেতে ১০ বছর লেগে যায়। কিন্তু বিশ্বে পরিবর্তন এক দশকের মধ্যেই ঘটে যায়। স্পার্ক-এর মতো কর্মসূচি আমাদের শিশুদের সম্ভাবনা উন্মোচন করতে এবং পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।”
কনরাড সাংমা বলেন, প্রযুক্তি হয়তো অনেক রুটিন কাজের জায়গা নিতে পারে, কিন্তু সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও মানবিক সক্ষমতার প্রয়োজন কখনও শেষ হবে না। তাঁর কথায়, “প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং এটি চিরকাল প্রয়োজন হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, স্পার্ক উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন বা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিকল্প নয়। বরং এই কর্মসূচি তরুণদের এমন সক্ষমতা তৈরি করছে, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতে ওই সুযোগগুলির আরও ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, স্পার্ক-এর মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ৫৩টি বেঞ্চমার্ক ক্যাম্পাসে ১২,০৭৮ জন পড়ুয়ার কাছে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬,৫৯২ জন ছাত্রী এবং ৫,৪৮৬ জন ছাত্র। সব মিলিয়ে এই উদ্যোগের সুবিধা পেয়েছে ২০,০০০-এরও বেশি পড়ুয়া।
মুখ্যমন্ত্রী ‘শিক্ষকদের জন্য স্পার্ক’ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। এর আওতায় ২৮৭টি স্কুলের ৫২৬ জন শিক্ষক জেলা সদরগুলিতে ৩০ ঘণ্টার নিবিড় সেমি-রেসিডেনশিয়াল প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কনরাড সাংমা জানান, প্রকাশ্যে কথা বলার সময় তিনিও একসময় নার্ভাস হয়ে যেতেন এবং বর্তমানে তরুণদের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যায়, তা তাঁর সময়ে ছিল না। তিনি বলেন, “আমাদের সময় স্পার্ক-এর মতো প্রশিক্ষণ ও দিশা দেখানোর কোনও কর্মসূচি ছিল না।” পাশাপাশি টিম স্পার্ক এবং অ্যাভিনিউ-কে অভিনন্দন জানান তিনি।
রাজ্যের ক্রীড়া কর্মসূচির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মেঘালয়ের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিভার কোনও অভাব নেই। এমনকি জুতো বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও কিছু শিশুকে বিশ্বের সেরা এক শতাংশ প্রতিভার মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কনরাড সাংমা বলেন, “পরিমাণ নয়, গুণমানই উৎপাদনশীলতা, উন্নয়ন এবং মেঘালয়কে আমরা কোথায় নিয়ে যাব, তা নির্ধারণ করবে।”
তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদে স্পার্ক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর মতে, আজ শিশুদের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দশকে সেটিই মেঘালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠবে।
_______



















