গুয়াহাটি, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জনপ্রিয় গায়ক ও সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যু মামলায় বুধবার গুয়াহাটির বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে সাক্ষ্য দিলেন সিঙ্গাপুরে অসম অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষিৎ শর্মা।
জুবিনের মৃত্যুর সময় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যে ইয়টে তিনি উপস্থিত ছিলেন, সেই ইয়টে থাকা অসম অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সদস্য হিসেবে পরীক্ষিৎ শর্মার সাক্ষ্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মামলার সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজের বক্তব্য রেকর্ড করান।
৫২ বছর বয়সি জুবিন গার্গ ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের লাজারাস আইল্যান্ডের কাছে একটি ইয়ট ভ্রমণের সময় সাঁতার কাটতে সমুদ্রে নামার পর ডুবে মারা যান। ‘নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল’-এর চতুর্থ সংস্করণে যোগ দিতে তিনি সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন।
জুবিনের মৃত্যুতে অসমজুড়ে শোক ও প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে। এরপর একাধিক পুলিশ অভিযোগ দায়ের হয় এবং অসম পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দায়ের হওয়া ৬০টিরও বেশি এফআইআর পরে একত্রিত করে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এসআইটি চার্জশিট পেশ করে। সেখানে মোট সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালের আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ব্যান্ডের সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং গায়িকা অমৃতপ্রভা মহন্তের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্য তিন অভিযুক্ত হলেন জুবিনের খুড়তুতো ভাই সন্দীপন গার্গ এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নন্দেশ্বর বোরা ও প্রবীণ বৈশ্য।
চলতি বছরের মার্চে গুয়াহাটি হাইকোর্ট মামলাটির দৈনন্দিন শুনানির জন্য একটি বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক সেশনস কোর্ট গঠন করে। মে মাসে সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়।
৮ জুন থেকে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয় এবং প্রতিদিনই শুনানি চলছে। এরই মধ্যে চলতি বছরের মার্চে সিঙ্গাপুরের কোরোনারস কোর্ট জানিয়েছিল, জুবিনের মৃত্যু জলে ডুবে যাওয়ার কারণে হয়েছে এবং সিঙ্গাপুরে তাঁর মৃত্যুতে কোনও ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে ভারতে চলা মামলায় জুবিনের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত বৃহত্তর পরিস্থিতি ও অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১৪ আগস্ট পর্যন্ত মামলায় তালিকাভুক্ত ৩৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে বাদীপক্ষ। এখনও সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক বেশ কয়েকজন সাক্ষীর আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টও অসম সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইয়টে সরাসরি উপস্থিত থাকা পরীক্ষিৎ শর্মার আদালতে সাক্ষ্যদানকে মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর জবানবন্দিতে কী তথ্য উঠে এসেছে এবং আদালতে তাঁকে কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।



















