নয়াদিল্লি, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ আরও সহজ করতে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত, স্বচ্ছ, স্বয়ংক্রিয় ও সময়সীমাবদ্ধ করার ওপর জোর দিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এনওসি প্রক্রিয়া সরলীকরণ, স্বয়ংক্রিয়করণ ও বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার নয়াদিল্লিতে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবং এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এএআই) শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশ দেন মন্ত্রী। বৈঠকে সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন সংস্থা, নির্মাণকারী এবং শিল্পক্ষেত্রের জন্য এনওসি প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করার পাশাপাশি বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাগুলি যথাযথভাবে বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
রাম মোহন নাইডু সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এনওসি প্রদানের প্রক্রিয়া কীভাবে আরও সরল, স্বয়ংক্রিয় ও বিকেন্দ্রীভূত করা যায়, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পুরো প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ যতটা সম্ভব কমানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে আবেদনকারীদের প্রাথমিক পর্যায়েই নির্মাণের অনুমোদিত বা নির্ধারিত উচ্চতা জানিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে দিল্লি, মুম্বই ও হায়দরাবাদের মতো বড় মহানগরগুলিতে এই ব্যবস্থা চালু করা গেলে আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি শুরু থেকেই নির্ধারিত উচ্চতা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ অনুযায়ী নির্মাণ পরিকল্পনা করতে পারবেন।
মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত সংস্কারের মূল লক্ষ্য হল প্রস্তাবগুলির দ্রুত ও সময়বদ্ধ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং অনুমোদিত নির্মাণ উচ্চতার বিবরণ ওয়েবসাইট-সহ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোনওভাবেই বিমান নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হবে না।
বৈঠকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম (এনওসিএএস)-এর বর্তমান ভৌগোলিক আওতাও পর্যালোচনা করা হয়। বর্তমানে ভিজ্যুয়াল ফ্লাইট রুলস (ভিএফআর) পরিচালনার ক্ষেত্রে ২০ কিলোমিটার এবং ইনস্ট্রুমেন্ট ফ্লাইট রুলস (আইএফআর)-এর ক্ষেত্রে ৫৬ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে এনওসিএএস প্রযোজ্য।
এছাড়া যেখানে সম্ভব, সেখানেই আরবান লোকাল বডি (ইউএলবি) স্তরে এনওসি দেওয়ার সম্ভাবনাও বৈঠকে খতিয়ে দেখা হয়। এর ফলে ব্যক্তি ও শিল্প সংস্থাগুলিকে সরাসরি এএআই-এর কাছে গিয়ে এনওসি নেওয়ার প্রয়োজন কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।



















