কাঠমান্ডু, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নেপালের রাসুওয়া ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে গত সপ্তাহের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,১১৪-তে পৌঁছেছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান ও তল্লাশি চালিয়ে এই মৃতদেহগুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ)।
এনডিআরআরএমএ-র তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৩৪৮টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। এরপর নাওয়ালপরাসি ইস্টে ২১৭, নাওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৯০, নুয়াকোটে ১৫৫, গোরখায় ৬৬, ধাদিংয়ে ৫৯, রাসুওয়ায় ৪১ এবং তানাহুনে ৩৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশও এই পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত। এখনও পর্যন্ত ৯৫টি মৃতদেহ শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, সরকারি কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিদেশি নাগরিক, বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে থাকা নেপালি নাগরিক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকসহ ৩,৯১৬ জন এখনও নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।
তবে নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে নেপালের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানে পার্থক্য রয়েছে। নেপাল পুলিশের বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৪,৮৫৮ জনের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, নেপাল (আইপিপিএএন) জানিয়েছে, রাসুওয়া ও নুয়াকোটের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী করিডোরের ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ৯৮৩ জনের অবস্থান এখনও অজানা।
নেপালি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ভারত ও চিনের টানেল উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গভীর সুড়ঙ্গে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। নিখোঁজদের সেখানে আটকে থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
আইপিপিএএন জানিয়েছে, আপার ত্রিশূলী-১, আপার ত্রিশূলী-৩এ, চিলিমে, লাংটাং খোলা এবং ত্রিশূলী-৩বি-সহ একাধিক প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান চলছে।
আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বন্যার সময় ১,৪৩৩ জন কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৮৭৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। এখনও নিখোঁজদের মধ্যে প্রকল্প সংস্থার ১৫ জন কর্মী, নির্মাণ সংস্থা ডুসানের ৭৮ জন, অ্যান্ড্রিটজ হাইড্রোর ৯৪ জন, পরামর্শদাতা সংস্থার ৭ জন এবং সিভিল সাব-কন্ট্রাক্টর পাওয়ারচায়নার ৩৮৫ জন শ্রমিক রয়েছেন।
অন্যদিকে, ১১১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকেও ৯১ জনের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার নেপালি সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে পাওয়ারহাউসের সুড়ঙ্গের ভিতরে কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তারা।
—আইএএনএস



















