কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেইউ) গত ১৯ ও ২০ আগস্টের সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আরও এক প্রাক্তন বিচারপতিকে যুক্ত করা হয়েছে। ওই সংঘর্ষে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেইউ কর্তৃপক্ষ পুনর্গঠিত তদন্ত কমিটি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিন সদস্যের ‘জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন’-এর নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়।
কমিটির নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন প্রাক্তন জেলা ও দায়রা বিচারক সমরেশ প্রসাদ চৌধুরী। ফলে তদন্ত কমিটির বিচার বিভাগীয় অংশে এখন দু’জন প্রাক্তন বিচারপতি রয়েছেন।
কমিটির তৃতীয় সদস্য হলেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গুণমান নিশ্চয়তা সেল (আইকিউএসি)-এর ডিরেক্টর সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায়। তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রেজেন্টেশন অফিসার হিসেবে থাকবেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রো অ্যানালিস্ট সুমন্ত জানা। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ সেলের জুনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট প্রণব কুমার হালদার কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই ওই কমিশনের একটি বৈঠকও হয়েছে।
সেই বৈঠকে চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন মনে করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটিতে আরও সদস্য যুক্ত করতে পারে। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এবার প্রাক্তন জেলা ও দায়রা বিচারক সমরেশ প্রসাদ চৌধুরীকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ও ২০ আগস্ট জাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ও সংঘর্ষের পর বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি এবং কীভাবে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতেই বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ক্যাম্পাসের দেওয়াল লিখন, গ্রাফিতি ও পোস্টার লাগানো নিয়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে পৃথক আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখা হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল ও অন্যান্য কাঠামোর সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা এবং মর্যাদা রক্ষা করাও জরুরি।
মতপ্রকাশের জন্য ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহারের জন্যও পড়ুয়াদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য।



















