দেহরাদুন, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রবল বৃষ্টিতে উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন নদী ও ঝোরার জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় একাধিক এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারী বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় স্বাভাবিক জনজীবনও ব্যাহত হয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) বুধবার রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনও এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে অতিবৃষ্টিতে ভূমিধস, পাথর ও মাটি ধসে পড়া, জল জমে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ঋষিকেশে বিন নদী ইতিমধ্যেই ফুঁসতে শুরু করেছে। একইভাবে হালদোয়ানিতে গৌলা নদীর জলস্তরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় হালদোয়ানিতে ১৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা বৃষ্টির তীব্রতার প্রমাণ।
এদিকে নৈনিতাল জেলার কৈঞ্চি ধামের কাছে শিপ্রা নদীর ভয়াবহ রূপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা। সাধারণত মন্দিরের পাশ দিয়ে শান্তভাবে বয়ে চলা এই নদী টানা বৃষ্টির জেরে মঙ্গলবার প্রবল স্রোতে ফুলে-ফেঁপে ওঠে এবং উপচে পড়ে।
ভাওয়ালি থেকে উৎপত্তি হওয়া শিপ্রা নদী গরামপানি-খৈরনা এলাকায় কোসি নদীতে মিশেছে। সোমবার রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যায়। তবে ভারী বৃষ্টি সত্ত্বেও মঙ্গলবার কৈঞ্চি ধামে ভক্তদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। মন্দিরের সামনের এলাকাও বেশ ফাঁকা ছিল।
প্রবল স্রোত সত্ত্বেও মন্দিরের সুরক্ষা দেওয়াল এবং সেতুর স্তম্ভগুলি অক্ষত রয়েছে। মন্দিরের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই ধর্মীয় আচার ও পুজো চলেছে।
নৈনিতাল জেলার আলচৌনা এলাকার পাণ্ডেচ্ছোড় গ্রামের পিছনে থাকা কাকারিয়া ড্রেনের জলও আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় এবং প্রায় দুই ডজন বাড়িতে জল ঢুকে পড়ে।
প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মূল্যবান সামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিরাপদে সরানোর কাজ শুরু করেন। বৃষ্টির জল বাড়তে থাকায় বেশ কিছু বাড়ি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ওই এলাকার ২৩টি পরিবারকে বাড়ি খালি করে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস জারি করেছে।
অন্যদিকে, চামোলি জেলাতেও টানা বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। একাধিক জায়গায় রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির ফলে অলকানন্দা ও পিণ্ডার নদীও প্রবল স্রোতে বইছে।
পিণ্ডার নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কর্ণপ্রয়াগ এলাকার দৃশ্যে দেখা গিয়েছে, ফুলে ওঠা নদীর প্রবল স্রোত ও ঢেউ নদীর তীরবর্তী বাড়ি, হোটেল এবং অন্যান্য নির্মাণের অত্যন্ত কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বাসিন্দাদের উদ্বেগও বেড়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদী ও ঝোরার জলস্তর দ্রুত আরও বেড়ে যেতে পারে। সাধারণ মানুষকে ফুলে ওঠা নদী, ঝোরা ও অন্যান্য জলাশয়ের কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন নজর রাখছে।
ভূমিধস, বন্যা এবং অতিবৃষ্টিজনিত অন্যান্য বিপর্যয়ের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং প্রশাসনের নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।



















