আগরতলা, ৩০ আগস্ট: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’-এর ১৩৭তম পর্ব উপলক্ষে রবিবার বাধারঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৫ নম্বর বুথের অন্তর্গত ঢুকলি বাজার এলাকায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, বিধায়িকা মীনা রানি সরকার, মণ্ডল সভাপতি মনীশ দেব-সহ দলীয় কর্মী ও স্থানীয় নেতৃত্ব।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে বলতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশের সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং কর্মসংস্থান-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দেশবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন, তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান মানেই সরকারি চাকরি নয়। নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং অন্যের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও কর্মসংস্থানের অংশ। একজন ব্যক্তি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তাঁর অধীনে আরও কয়েকজন কাজের সুযোগ পেলে সেটিও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘পিএম স্বনিধি’, ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’, ‘স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর মতো উদ্যোগের মূল লক্ষ্যই হল সাধারণ মানুষকে স্বনির্ভর করে তোলা।
‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বিভিন্ন ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ত্রিপুরায় বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে সুশান্ত চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের উদ্যোগেই রাজ্যে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহার নেতৃত্বে ত্রিপুরা আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
‘মন কি বাত’-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রতি মাসের শেষ রবিবার দেশবাসীর উদ্দেশে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরছেন। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, পর্যটন, খেলাধুলা, বিজ্ঞান ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গোটা দেশের মানুষ জানতে পারছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মন কি বাত’ দেশের এক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে অন্য প্রান্তের মানুষের একটি যোগসূত্র তৈরি করেছে। কাশ্মীর থেকে মিজোরাম, তামিলনাড়ু থেকে পাঞ্জাব কিংবা মণিপুর থেকে মহারাষ্ট্র—দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের সাফল্য ও উদ্যোগকে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় সংহতি ও দেশাত্মবোধ আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ত্রিপুরার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। কাঞ্চনপুর মহকুমার জামতুই এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও স্বচ্ছতা উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। স্বচ্ছ ভারত মিশনের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জাতীয় স্তরে পরিচিতি পাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া ত্রিপুরার জাতীয় সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে ত্রিপুরা দেশের মূলস্রোতের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ, সৌরশক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও রাজ্যের বিভিন্ন উদ্যোগ জাতীয় স্তরে তুলে ধরা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর মধ্যে দেশাত্মবোধ ও জাতীয় সংহতির চেতনা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন, সেই লক্ষ্য পূরণে ‘মন কি বাত’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



















