নয়াদিল্লি, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রবেশ এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে পাকিস্তানভিত্তিক একটি গুপ্তচরচক্রের হদিস পেল দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, স্পেশাল সেলের নর্দার্ন রেঞ্জ এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দিল্লির এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার হওয়া দু’জন হলেন মহম্মদ সাহিল এবং তাঁর স্ত্রী সামিরা। পুলিশের দাবি, ২০২৪ সাল থেকে তাঁরা পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছিলেন। পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন এলাকার সেনা ছাউনির গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য নতুন লোক নিয়োগের দায়িত্বও তাঁদের দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে দুবাইয়ের মাধ্যমে সেগুলি পাকিস্তানে পাঠানো হতো। পাকিস্তানে ওই সিম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হতো। এরপর পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভরা সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রবেশ এবং ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে মোট আটটি ভারতীয় সিম কার্ড দুবাই হয়ে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর বিনিময়ে ওই দম্পতিকে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা প্রায় ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিল বলে অভিযোগ।
দিল্লি-এনসিআরে আইএসআই-সমর্থিত পাকিস্তানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার বিষয়ে স্পেশাল সেল তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। ইনস্পেক্টর অনুজ নৌটিয়াল ও চন্দন কুমারের নেতৃত্বে এবং এসিপি রাহুল কুমার সিংয়ের তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী দল স্থানীয় যোগাযোগগুলি চিহ্নিত করে।
সারাই কালে খান এলাকা থেকে সাহিলকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে কথোপকথনের বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
জেরায় সাহিল তদন্তকারীদের জানিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তিনি এক পাকিস্তানি এজেন্টের সংস্পর্শে আসেন। তাঁর স্ত্রী সামিরার মাধ্যমেই ওই যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে ওই এজেন্ট দম্পতিকে এক পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই অপারেটিভ তাঁদের নেটওয়ার্কে যুক্ত করে বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, সাহিল ও সামিরা চক্রটিকে বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক সহায়তা দিতেন। তাঁদের আরও লোক নিয়োগ করে গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত কাজ এবং মাঠপর্যায়ের অপারেশনে যুক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
সাহিলকে ভারতের বিভিন্ন সেনা ছাউনির ওপর নজরদারির জন্য লোক নিয়োগের পাশাপাশি যেসব সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শালের মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল, তাঁদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সাহিলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সামিরাকেও গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় সামিরা ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ এবং পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে সেগুলি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কথা স্বীকার করেছেন।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলির ফরেনসিক পরীক্ষায় দম্পতির সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অন্যান্য কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের দাবি, তদন্ত ও অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানভিত্তিক ওই নেটওয়ার্কের কথিত গুপ্তচরবৃত্তির কার্যকলাপ ব্যাহত করার পাশাপাশি দিল্লি-এনসিআরে তাদের স্থানীয় সহযোগী কাঠামো সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে।























