নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ আগস্ট: রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই অষ্টম পে কমিশন গঠন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিযুক্তির জন্য পর্যালোচনা চলছে, যাতে সঠিক ব্যক্তিরাই কমিশনের চেয়ারম্যান এবং মেম্বার হিসাবে নিযুক্তি পান। আমরা আশা করছি পে-এনামলি সংক্রান্ত বিষয়গুলিও উক্ত কমিশনের পর্যালোচনায় আসবে এবং সেসব সমস্যা দূরীকরনে কমিশন সঠিক সুপারিশ করবে। আজ বিধানসভা অধিবেশনে উল্লেখ পর্বে আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায় এ কথা বলেন। বিষয়টি আলোচনার জন্য উত্থাপন করেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীও আলোচনায় অংশ নেন।
এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজ্যে ত্রিপুরা সরকারি কর্মচারিদের জন্য সর্বপ্রথম ১৯৬৩ সালে ত্রিপুরা এমপ্লয়ীজ (রিভিশন অফ পে এন্ড এলাওন্সেস), রুলস, ১৯৬৩ প্রণিত হয়। যা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রণিত নীতির অনুরূপ। ত্রিপুরা পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পাওয়ার পর সর্বপ্রথম বেতন কাঠামোর জন্য ত্রিপুরা গভর্মেন্ট সার্ভিসেস (রিভাইজড পে) রুলস, ১৯৭৫ প্রণয়ন করে। উক্ত নীতির দ্বিতীয় রিভিশন হয় ১৯৮২ সালে। রাজ্য সরকার ১৯৮৫ সালে তৃতীয় পে কমিশন গঠন করে এবং উক্ত বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুসারে ত্রিপুরা স্টেট সিভিল সার্ভিসেস (রিভাইজড পে) রুলস ১৯৮৮ প্রণয়ন করে, যা ১ জানুয়ারী ১৯৮৬ থেকে কার্যকর হয়। রাজ্য সরকার ১৯৯৬ সালে রাজ্যে চতুর্থ বেতন কমিশন গঠন করে এবং উক্ত বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুসারে ত্রিপুরা স্টেট সিভিল সার্ভিসেস (রিভাইজড পে) রুলস ১৯৯৯ প্রণয়ন করে এবং যা ১৯৯৬ সাল থেকে কার্যকরি হয়।
২০০৮ সালে রাজ্য সরকার একটি পে রিভিশন কমিটি গঠন করে এবং উক্ত কমিটির সুপারিশ অনুসারে ত্রিপুরা স্টেট সিভিল সার্ভিসেস (রিভাইজড পে) রুলস, ২০০৯ প্রণয়ন করে যা ১ জানুয়ারী ২০০৬ থেকে কার্যকরি হয়। রাজ্য সরকার ২০১৭ সালে পে এন্ড পেনশন রিভিশন কমিটি গঠন করে এবং উক্ত কমিটির সুপারিশ অনুসারে ত্রিপুরা স্টেট সিভিল সার্ভিসেস (রিভাইজড পে) রুলস, ২০১৭ প্রণয়ন করে, যা ১ এপ্রিল ২০১৭ থেকে কার্যকরি হয়। ২০১৮ সালে আমাদের সরকার আসার পরে আমরা বেতন ও পেনশন রিভিশনের জন্য একটি এক্সপার্ট কমিটি গঠন করি, উক্ত কমিটির সুপারিশ অনুসারে ত্রিপুরা স্টেট সিভিল সার্ভিসেস (১ এমেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০১৮ প্রণিত হয়, যা ১ অক্টোবর ২০১৮ থেকে কার্যকর হয়। এক্সপার্ট কমিটি যে রিপোর্টটি দিয়েছিল তাতে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.২৫ থেকে ২.৫৭ এ বর্ধিত হয় এবং সমস্ত কর্মচারি ও পেনশনারদের মূল বেতন ও মূল পেনশন বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এতে আগে ডিএ দিতে যে পরিমান অর্থের প্রয়োজন হতো এখন সমপরিমাণ ডিএ দিতে এর থেকে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার গত ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জাস্টিস রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই-এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারিদের জন্য অষ্টম পে কমিশন গঠন করেছে। দুই-একটি রাজ্য ব্যতীত অধিকাংশ রাজ্য এখনো নতুন করে বেতন কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়নি।


















