ধর্মনগর, ২৭ আগস্ট: উত্তর ত্রিপুরা জেলার খেটে খাওয়া মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানের দাবিতে সরব হলো ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া নিয়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে ধর্মনগরে মিছিল ও ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
এদিন দুপুর ১টা নাগাদ সিপিআইএমের ধর্মনগর মহকুমা দপ্তরের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে পুনরায় মহকুমা দপ্তরের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক ও সমাহর্তার কাছে গিয়ে আট দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের জেলা সম্পাদক দুর্গেশ রায়, রাজ্য কমিটির সদস্য প্রীতি বালা নাথ, জেলা কমিটির সদস্য নিরঞ্জন চক্রবর্তী, পানিসাগর মহকুমা সম্পাদক অবনী দে এবং ধর্মনগর মহকুমা সম্পাদক অনুকূল দাস।
স্মারকলিপিতে গরিব মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিতদের ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ জিও-ট্যাগিং প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে এমজিএনরেগার আওতায় বছরে ২০০ দিনের কাজ এবং দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি নিশ্চিত করার দাবি ওঠে। শহরের টুয়েপ শ্রমিকদের কাজের দিন ও মজুরি বৃদ্ধির জন্যও প্রশাসনের কার্যকরী উদ্যোগ দাবি করা হয়।
মাসের পর মাস শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া পড়ে থাকা এবং সরকারি নির্ধারিত হারের তুলনায় কম মজুরি দেওয়ার অভিযোগ তুলে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানায় সংগঠনটি।
এছাড়াও বিদ্যুতের অতিরিক্ত মাশুল কমানো এবং স্মার্ট মিটার প্রত্যাহার, গ্রাম পঞ্চায়েত, এডিসি ভিলেজ ও শহরের চলাচলের অযোগ্য রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কার এবং ভূমিহীন গ্রামীণ গরিবদের জমির বন্দোবস্ত দেওয়ার দাবিও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়।
নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি রোধে রেশন ও ন্যায্যমূল্যের দোকানের মাধ্যমে মাথাপিছু ১২ কেজি চালের পাশাপাশি ডাল, চিনি, সরষের তেল, লবণ ও সাবান ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহের দাবি জানানো হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে পানীয় জলের সংকট নিরসনে বিকল হয়ে পড়ে থাকা আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্টগুলি দ্রুত সংস্কারের দাবিও জানানো হয়।
পাশাপাশি সামাজিক ভাতা প্রতি মাসে নিয়মিত প্রদান এবং ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন।
প্রতিনিধি দল জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।























