আমরেলি, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): নর্মদা প্রকল্পের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার বলেন, ১৯৬৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তবে নর্মদা প্রকল্পের জলাধারের গেট খোলা হয় নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর।
আমরেলি জেলার দুধালায় ‘গুজরাট গৌরব সরোবর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, বহু বছর ধরে নর্মদা প্রকল্পের কাজ চলার পর শেষ পর্যন্ত গুজরাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নর্মদার জল পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, “১৯৬৪ সালে জওহরলাল নেহরু নর্মদা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আমিও ১৯৬৪ সালে জন্মেছি। নরেন্দ্র ভাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এর গেট খোলা হয়।”
শাহ জানান, পরবর্তীতে নর্মদার জল সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছের বিস্তীর্ণ এলাকায়, এমনকি খাভদা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সৌরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাঁধ ও নদীতে নর্মদার উদ্বৃত্ত জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘সৌনি যোজনা’-রও উল্লেখ করেন তিনি।
গুজরাটে জল সংরক্ষণের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে খরার পরিস্থিতি অনেকটাই কমেছে বলেও দাবি করেন শাহ। তিনি ১৯৮৫, ১৯৮৬ ও ১৯৮৭ সালের ভয়াবহ খরার দিনগুলির কথা স্মরণ করে সেই সময়ের জলসংকট ও ত্রাণকাজের কথা তুলে ধরেন।
শাহ বলেন, ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জল সংরক্ষণ ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাঁর দাবি, ২০০৩ সালে এক বছরেই ১.৫ লক্ষ চেক ড্যাম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এছাড়াও হাজার হাজার জলাশয় নির্মাণ ও পুনর্ভরাট, উত্তর গুজরাটে ‘সুজলাম সুফলাম যোজনা’, ড্রিপ ও স্প্রিঙ্কলার সেচ ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রের ‘ক্যাচ দ্য রেন’ অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শাহ বলেন, নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর জল সংরক্ষণে আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব দিতে ‘জল শক্তি মন্ত্রক’ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন বাঁধের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে সেচের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘গুজরাট গৌরব সরোবর’ প্রকল্প প্রসঙ্গে শাহ বলেন, হরিকৃষ্ণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাবজিভাই ধোলাকিয়া প্রায় দু’বছর আগে তাঁকে এই এলাকায় একটি জলাশয় নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ায় তিনি উদ্যোগটির প্রশংসা করেন।
শাহ জানান, ২১ একর এলাকাজুড়ে তৈরি এই সরোবরটির দৈর্ঘ্য ৩৬০ মিটার, প্রস্থ ২৬০ মিটার এবং গভীরতা চার মিটার। জল সংরক্ষণের ফলে এলাকার ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বহু কুয়ো পুনরুজ্জীবিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ধোলাকিয়ার ফাউন্ডেশন গাগাদিয়া নদী পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি ২০৮টি জলাশয় নির্মাণেও অবদান রেখেছে।
সৌরাষ্ট্র ও গোটা গুজরাটে জল সংরক্ষণে এই ধরনের উদ্যোগ আরও সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন শাহ। তাঁর কথায়, ঈশ্বর যাঁদের সামর্থ্য দিয়েছেন, তাঁরা মানুষের কল্যাণে জল সংরক্ষণে অর্থ ব্যয় করতে এগিয়ে আসবেন এবং তাঁদের অনুপ্রেরণায় আরও মানুষ সম্মিলিতভাবে জল সংরক্ষণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
—আইএএনএস



















