নয়াদিল্লি, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা (পিএমজেডিওয়াই)-র আওতায় খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৫৯ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.১৭ লক্ষ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট এই প্রকল্প চালুর ১২ বছর পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, পিএমজেডিওয়াই-এর আওতায় খোলা অ্যাকাউন্টগুলির প্রায় ৭৮ শতাংশ গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায়। প্রায় ৫৬ শতাংশ অ্যাকাউন্টের মালিক মহিলা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষকে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসাই এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।
২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি জনধন অ্যাকাউন্টে গড় জমার পরিমাণ ৫,৩৫৬ টাকা। গত ১২ বছরে অ্যাকাউন্ট-পিছু গড় জমার পরিমাণ ৩.৪ গুণ বেড়েছে। এর ফলে অ্যাকাউন্টগুলির ব্যবহার এবং গ্রাহকদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্ত্রক জানিয়েছে।
প্রতিটি পিএমজেডিওয়াই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে বিনামূল্যে রুপে ডেবিট কার্ড দেওয়া হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনা বিমার সুবিধা পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাকাউন্টধারীরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওভারড্রাফটের সুবিধাও পেতে পারেন।
অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, কোনও মধ্যস্থতাকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই দ্রুত দেশের দরিদ্রতম মানুষের কাছে আর্থিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী বলেন, পিএমজেডিওয়াই-এর মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যাংক-বহির্ভূত প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে একটি মৌলিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালান্স রাখার বাধ্যবাধকতা নেই এবং কোনও রক্ষণাবেক্ষণ খরচও নেই। এর ফলে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লক্ষ লক্ষ মানুষ ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন এবং তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মালিকানা সাধারণ মানুষকে বিমা ও পেনশন পরিষেবার আওতায় আসার সুযোগ দিয়েছে। প্রতিটি রাজ্য ও জেলায় ধারাবাহিকভাবে অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযান চালিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রায় সর্বজনীন কভারেজের দিকে এগোনো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁদের কাছে বিমা ও পেনশন প্রকল্পের সুবিধাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জনধন-আধার-মোবাইল বা জ্যাম ত্রয়ীর কেন্দ্রে রয়েছে পিএমজেডিওয়াই। সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা মধ্যস্থতাকারী ও বিলম্ব দূর করে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করছে। জ্যাম ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি বিভিন্ন সরকারি সুবিধার অর্থ পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।


















