আগরতলা, ২৬ আগস্ট: লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং ই-রিকশা, টমটম ও অটোচালকদের ওপর চলমান হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করে ত্রিপুরা প্রদেশ অসংগঠিত শ্রমিক কংগ্রেস। আজ এই কর্মসূচিতে শ্রমিক ও অটোচালকদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিক্ষোভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অল ত্রিপুরা আনঅর্গানাইজড ওয়ার্কার্স কংগ্রেসের চেয়ারম্যান শান্তনু পাল অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে চাল, চিনি, পেঁয়াজ, সরষের তেল, মুগ ডাল, মসুর ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম লাগাতার বাড়ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ।
তিনি বলেন, বর্তমানে চালের দাম ৭০ টাকার নিচে নেই, চিনির দামও প্রায় ৭০ টাকা, পেঁয়াজের দাম ৬০-৭০ টাকা এবং সরষের তেলের দাম ২০০ টাকার বেশি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধি শ্রমিকদের জীবনে চরম দুর্ভোগ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একইসঙ্গে অটোচালকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শান্তনু পাল। তাঁর দাবি, অটোর রং পরিবর্তন, মিটার বসানো, নির্দিষ্ট রুটে চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে চালকদের জন্য স্পষ্ট ব্যবস্থা করা হয়নি। এর ফলে ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে অনেক চালককে আটক করে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক অটোচালক মাইক্রোফাইন্যান্স সংস্থা বা অন্যান্য উৎস থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন। উৎসবের মরশুমে তাঁদের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক হয়রানি ও গাড়ি আটকে রাখার কারণে তাঁদের আর্থিক সংকট আরও বাড়ছে।
বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পর সরকারই বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্যের বিষয়টি নিয়ে প্রচার করছে বলে কটাক্ষ করেন শান্তনু পাল।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে দ্রুত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, অটো ও ই-রিকশা চালকদের হয়রানি বন্ধ করা এবং শ্রমজীবী মানুষের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।























