বেঙ্গালুরু, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): আদিবাসী কল্যাণ দপ্তরে কথিত অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চাপ বাড়তে থাকায় কর্ণাটকের পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান মন্ত্রী বি. নাগেন্দ্রর ইস্তফার সম্ভাবনা বুধবার উড়িয়ে দিলেন না মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার। তিনি বলেন, দলের নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক থেকে শুরু করে কর্মী—সকলেই দলের ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ সৈনিক’।
নাগেন্দ্রকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শিবকুমার বলেন, “আমাদের দলে নেতা বা মন্ত্রী—দলের প্রত্যেকেই, তিনি কর্মী, মন্ত্রী বা বিধায়ক যেই হোন না কেন, দলের শৃঙ্খলাবদ্ধ সৈনিক।” এরপর অবশ্য তিনি আর বিস্তারিত কিছু না বলে সেখান থেকে চলে যান।
আদিবাসী কল্যাণ দপ্তরে কথিত আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় নাগেন্দ্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে মন্ত্রিসভায় ফের অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিজেপি তীব্র আপত্তি জানিয়েছে এবং তাঁর ইস্তফার দাবি তুলেছে।
সূত্রের খবর, নাগেন্দ্র মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ইস্তফার প্রস্তাব দিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় তাঁর থাকা দলের জন্য অযথা অস্বস্তির কারণ হচ্ছে বলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। বিজেপি তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করছে এবং দলের ভাবমূর্তির স্বার্থে তিনি সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত বলেও নাগেন্দ্র জানিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
সূত্র আরও জানিয়েছে, শিবকুমার তাঁকে জানান যে ইস্তফা গ্রহণের আগে বিষয়টি কংগ্রেসের হাইকম্যান্ডকে জানিয়ে অনুমোদন নেওয়া হবে। হাইকম্যান্ডের সম্মতি মিললে বুধবারই নাগেন্দ্র ইস্তফা দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
নাগেন্দ্রকে মন্ত্রিসভায় ফের অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে বিজেপির ধারাবাহিক রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিধানসভায় বিরোধীরা একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই বিধানসভার অধিবেশনও নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ও সাক্ষরতা মন্ত্রী মধু বাঙ্গারাপ্পা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে শিবকুমারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে নাগেন্দ্রর ইস্তফার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাঙ্গারাপ্পা বলেন, এ ব্যাপারে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই।
তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনও তথ্য নেই।”
কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলট নাগেন্দ্রর বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। রাজ্যপাল অনুমতি দিলে এবং পরবর্তীতে ইডি বা সিবিআই নাগেন্দ্রকে গ্রেপ্তার করলে সরকার ও দলের জন্য পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা দলের একাংশের।
এর আগে শিবকুমার স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, নাগেন্দ্র ইস্তফা দেবেন না এবং মন্ত্রিসভায় বহাল থাকবেন। তবে বুধবারের বক্তব্যে তিনি ইস্তফার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ না করায় নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে সরকার নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
নাগেন্দ্র সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেছিলেন, তিনি কেবল অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত নন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, দলিত নেতা হওয়ার কারণেই বিজেপি তাঁকে নিশানা করছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে বাদ পড়া কংগ্রেসের একাধিক প্রবীণ নেতা নাগেন্দ্রকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করায় অসন্তুষ্ট বলে জানা গেছে। ফলে বিষয়টি দলের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়িয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে শিবকুমারের। সেখানে তিনি এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক তথা কংগ্রেস সাংসদ কে.সি. বেণুগোপালের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় নাগেন্দ্রর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এরই মধ্যে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপি তাদের আন্দোলন আরও জোরদার করেছে। আগামী ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর রায়চুর থেকে বাল্লারি পর্যন্ত ২০০ কিলোমিটার পদযাত্রার ঘোষণা করেছে কর্ণাটক বিজেপি। রাজ্য সরকারের কথিত ব্যর্থতাগুলি তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি বলে জানিয়েছে দল। বাল্লারি নাগেন্দ্রর নিজের জেলা হওয়ায় পদযাত্রায় তাঁর ইস্তফার দাবিও অন্যতম প্রধান বিষয় হতে পারে।
–আইএএনএস
mka/rad



















