ইম্ফল, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): ইম্ফল-দিমাপুর-গুয়াহাটি জাতীয় সড়ক-২ (NH-2) দিয়ে আন্তঃরাজ্য গণপরিবহণ পরিষেবার নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করায় নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচাঁদ সিং। মঙ্গলবার ইম্ফলের হায়িং খংবালে ৪৫তম হকার্স ডে (সংবাদপত্র পরিবেশক দিবস) উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাগা ও কুকি জনজাতি সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া মণিপুরে শান্তি বজায় রাখা, স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষ ও গণপরিবহণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সোমবার সেনাপতি জেলার তাফৌ গ্রামে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে খেমচাঁদ সিং বলেন, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অবাধ যান চলাচল নিশ্চিত করতে বিধায়ক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনও কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্যও তাঁদের অনুরোধ করা হয়। কয়েক ঘণ্টা দেরি হলেও ইম্ফল থেকে গণপরিবহণ পরিষেবা ফের স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে।
সোমবার তাফৌ গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াইয়ে এক CRPF জওয়ান আহত হন। পাশাপাশি অন্তত দু’টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও জাতীয় সড়ক-২ অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবেশী কাংপোকপি জেলার তাফৌ কুকি গ্রামে একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেনাপতি জেলার নাগা তাফৌ গ্রামেও একটি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
তবে মঙ্গলবার টানা চতুর্থ দিনের মতো ইম্ফল-দিমাপুর-গুয়াহাটি রুটে জাতীয় সড়ক-২ দিয়ে গণপরিবহণ চালু ছিল। পাঁচটি বাস এবং ন’টি উইঙ্গার গাড়িতে প্রায় ৩০০ জন যাত্রী ইম্ফল থেকে দিমাপুর ও গুয়াহাটির উদ্দেশে নিরাপদে রওনা দেন। তাঁদের মধ্যে মহিলা ও শিশুও ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিংয়ের শান্তি উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা গড়ে তোলার প্রচেষ্টার মধ্যেই এই পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে। গত ৮ আগস্ট কাংপোকপি জেলার সদর দফতর থেকে কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সব জাতীয় সড়কে অবাধ যান চলাচলের বিষয়ে যৌথ ঘোষণা করা হয়েছিল।
জাতীয় সড়ক-২-এর বিভিন্ন অংশে কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলেও মহাসড়ক দিয়ে গণপরিবহণ পরিষেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্য সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন পার্বত্য জেলায় সফর করছেন। এখনও পর্যন্ত মঙ্গলবারের যাত্রা-সহ প্রায় ৯০০ জন যাত্রী ইম্ফল থেকে নাগাল্যান্ডের প্রধান বাণিজ্যিক শহর দিমাপুর এবং অসমের প্রধান শহর গুয়াহাটিতে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, দিমাপুর ও গুয়াহাটি থেকে ৪০০-রও বেশি যাত্রী নিরাপদে ইম্ফলে ফিরেছেন।
জিরিবাম জেলায় তাঁর সাম্প্রতিক সফরের কথাও স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া জাতিগত হিংসার কারণে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে তিনি জানান। সরকারের শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগে সেই দূরত্ব অনেকটাই কমেছে এবং বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
খেমচাঁদ সিং বলেন, মণিপুরে শান্তি ও উন্নয়ন ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ। রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সরকারি উদ্যোগের মধ্যেও কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা তৈরি করতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে বিষ্ণুপুর জেলার ত্রোংলাওবি ঘটনার উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী, যেখানে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের অখণ্ডতা অতীতে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে রক্ষা করেছেন। ভবিষ্যতেও তা অটুট রাখতে হবে। রাজ্যকে সুরক্ষিত রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এখানে বসবাসকারী প্রত্যেক মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে হকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েশনের জন্য একটি কর্পাস ফান্ড গঠনের প্রস্তাব পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন।
মণিপুর হকার্স অ্যাসোসিয়েশন (নিউজপেপার ডিস্ট্রিবিউটরস) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিধায়ক সাপাম কুঞ্জকেশ্বর সিং, লৌরেমবাম রামেশ্বর মেইতেই এবং অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
— আইএএনএস
























