বেজিং, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত ও চীন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ‘গভীর আলোচনা’ অব্যাহত রাখবে বলে জানাল বেজিং। দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে সোমবার জানিয়েছেন চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান।
মঙ্গলবার বেজিংয়ে ভারত-চীন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে চিনের পক্ষ থেকে এই মন্তব্য করা হল। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ইতিমধ্যেই চিনের বিদেশমন্ত্রী তথা কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে দু’দিনের সফরে বেজিং পৌঁছেছেন।
নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে লিন জিয়ান বলেন, ভারত-চীন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে আলোচনার প্রধান মাধ্যম। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে যোগাযোগেরও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
তিনি জানান, গত বছরের আগস্টে দুই দেশ বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৪তম বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা ও গভীর আলোচনা করেছিল। সেই বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে ঐকমত্যও তৈরি হয়েছিল।
লিন জিয়ান বলেন, এবারের বৈঠকে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া ঐকমত্যের ভিত্তিতে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে উভয় পক্ষ গভীর আলোচনা চালিয়ে যাবে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা যৌথভাবে বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।
সীমান্ত ইস্যুর পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করবে বলে জানান তিনি।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বেজিং সফরে অজিত ডোভাল চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
ভারত বরাবরই বলে এসেছে, সীমান্ত পরিস্থিতির সঙ্গে সামগ্রিক ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবস্থার সরাসরি যোগ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা ভারতের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়।
৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত ভারত-চীন সীমান্ত বিষয়ক ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন (ডব্লিউএমসিসি)-এর ৩৬তম বৈঠকেও দুই পক্ষ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছিল।
জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, ভারত আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধান এবং এলএসি বরাবর ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল হিসাবের সম্ভাবনা এড়াতে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থাগুলি ব্যবহার করে যাওয়ার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।























