শিলং, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): শিলংয়ে ১৯ আগস্টের হিংসাত্মক ঘটনার পর অসম ও মেঘালয়ের মধ্যে যানবাহন ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধার ও বজায় রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার জানালেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা।
মেঘালয় বিধানসভায় স্বতঃপ্রণোদিত বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, হিংসার পর আন্তঃরাজ্য করিডরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২২ আগস্ট দুই রাজ্যের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মেঘালয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন উপমুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াউবালাং ধর এবং অসমের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন রাজ্যের প্রবীণ মন্ত্রী অতুল বোরা। বৈঠকে দুই রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
সাংমা জানান, বৈঠকের পর অসমের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে জোরাবাটে চলা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে দুই রাজ্যের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রুখতে অসম ও মেঘালয়ের মধ্যে একটি পৃথক হটলাইন চালু করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, আন্তঃরাজ্য সীমান্ত সংক্রান্ত দৈনন্দিন সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য মেঘালয়ের নংপোহ ও অসমের কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলার ডেপুটি কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট স্তরের পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে একটি স্থায়ী জেলা-স্তরের কমিটি গঠন করা হবে।
পর্যটন পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও সুষ্ঠু ও নিয়ন্ত্রিত করতে দুই রাজ্যের কমিশনার ও সচিব পর্যায়ের পরিবহণ আধিকারিক এবং পর্যটন ট্যাক্সি সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে আরও একটি যৌথ কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান সাংমা। এই কমিটি পর্যটন যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অসম ও মেঘালয়ের অভিন্ন পর্যটন স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে।
মেঘালয়ের পরিবহণ দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবহণ সংগঠনগুলির সঙ্গেও একটি বৈঠক হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকের পর সংগঠনগুলি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারে সম্মত হয়। ফলে যানবাহন চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সরকার ও পরিবহণ সংগঠনগুলির মধ্যে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বকেয়া সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা হবে।
১৯ আগস্ট শিলংয়ে কালো পতাকা নিয়ে বাইক মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় অসমের রেজিস্ট্রেশন নম্বরযুক্ত গাড়ি-সহ বেশ কয়েকটি যানবাহনে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর দুই রাজ্যের মধ্যে যান চলাচল ও পণ্য পরিবহণ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
মুখ্যমন্ত্রী সাংমা বলেন, দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে শান্তি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষ, যানবাহন ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
—আইএএনএস



















