আগরতলা, ২৪ আগস্ট: অনূর্ধ্ব-১৪ বালক ও বালিকাদের জাতীয় প্রতিযোগিতার দল গঠন ও খেলোয়াড় বাছাইকে কেন্দ্র করে ওঠা একাধিক অভিযোগের তদন্তে ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের সচিব মিনতি পাল এবং সহ-সভাপতি চন্দন সুর দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। তদন্তে অভিযোগগুলি প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কাউন্সিলের সভাপতির উপর চাপ বাড়ছে।
জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মণীন্দ্র চন্দ্র দেব ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৪ বালক ও বালিকাদের নির্বাচন শিবির।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শিবির থেকে ১৫ জন বালক ও ১৫ জন বালিকা মূল দলে নির্বাচিত হন। পাশাপাশি কয়েকজন খেলোয়াড়কে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, শুরুতে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে ৩,৫০০ টাকা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরে কোনও আগাম আলোচনা বা সভাপতিকে অবহিত না করেই আরও ১,৩০০ টাকা দাবি করা হয়। ফলে প্রত্যেকের কাছ থেকে মোট ৪,৮০০ টাকা দিতে বলা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা করা অনেক পরিবারের পক্ষেই কঠিন ছিল। তবে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সন্তানদের অংশগ্রহণের আশায় অভিভাবকরা কোনওভাবে সেই অর্থের ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগকারী আরও জানান, তাঁর মেয়েকে মূল দল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি তিনি সমীর রঞ্জন পালের মাধ্যমে জানতে পারেন। কিন্তু কেন তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও লিখিত বা স্পষ্ট মৌখিক কারণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় জানানো হয় যে তাঁর মেয়ে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না। এমনকি মেয়েটি রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পর তাকে বলা হয়, মোবাইল নম্বর ভুল দেওয়ার কারণে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি এবং সে আর যেতে পারবে না।
ঘটনাটিকে শিশু অধিকার, খেলোয়াড়দের মানসিক নিরাপত্তা এবং তাঁদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণের প্রশ্নে গুরুতর বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে অভিযোগপত্রে। দল থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও লিখিত কারণ না দেখিয়ে শিশুটিকে মানসিক চাপের মধ্যে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
মণীন্দ্র চন্দ্র দেবের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের ভিত্তিতে ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। তদন্তে সচিব মিনতি পাল এবং সহ-সভাপতি চন্দন সুরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। এখন ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের সভাপতি কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও তাঁদের অভিভাবকরা।



















