লখনউ, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): ভুয়ো ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (আইটিসি) গ্রহণ ও অন্যদের কাছে তা বেআইনিভাবে স্থানান্তরের অভিযোগে অর্থপাচার মামলার তদন্তে উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার মোট ৯টি জায়গায় সোমবার তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডির লখনউ জোনাল অফিসের আধিকারিকরা জানান, উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর ও গাজিয়াবাদ এবং হরিয়ানার ফরিদাবাদের বিভিন্ন ঠিকানায় এই তল্লাশি চলছে।
২০০২ সালের প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর আওতায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোনও পণ্য সরবরাহ না হলেও জাল ইনভয়েস ও ই-ওয়ে বিল তৈরি করে ভুয়ো আইটিসি তৈরি এবং তা অন্যদের কাছে স্থানান্তরের একটি চক্রের অভিযোগের তদন্ত করছে ইডি।
আধিকারিকদের মতে, মামলাটি ‘মেসার্স জাম্বুদ্বীপ এক্সপোর্টস অ্যান্ড ইমপোর্টস লিমিটেড’-কে কেন্দ্র করে। সংস্থাটির বিরুদ্ধে জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ভুয়ো আইটিসি তৈরি ও তা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ঘোরানোর অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এমন ইনভয়েস ও ই-ওয়ে বিল তৈরি করেছে, যার সঙ্গে বাস্তবে কোনও পণ্য পরিবহণের সম্পর্ক ছিল না। এর মাধ্যমে প্রকৃত পণ্য লেনদেন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ কর-সুবিধা নেওয়া এবং অন্য সংস্থাকে তা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
তদন্তে একাধিক সংস্থার মধ্যে ব্যাপক সার্কুলার লেনদেন, দ্রুত অর্থের স্তরবিন্যাস বা ‘লেয়ারিং’ এবং একাধিক ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন সংস্থার মাধ্যমে নগদ টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ইডি। তদন্তকারীদের মতে, শেল সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে ভুয়ো আইটিসি লেনদেন থেকে তৈরি অর্থ ঘোরানো ও আড়াল করা হয়ে থাকতে পারে।
ইডি আধিকারিকরা জানান, জিএসটি কর্তৃপক্ষের তদন্তে ৯.৬৩ কোটি টাকার ভুয়ো আইটিসি গ্রহণ এবং ১০.২৮ কোটি টাকার আইটিসি অন্যদের কাছে বেআইনিভাবে স্থানান্তরের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে সরকারি কোষাগারের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পিএমএলএ অনুযায়ী ‘অপরাধলব্ধ অর্থ’ বা ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
এই তল্লাশির মূল লক্ষ্য ভুয়ো আইটিসি লেনদেনের মাধ্যমে তৈরি কথিত অপরাধলব্ধ অর্থের গতিপথ অনুসন্ধান করা এবং এই চক্র থেকে কারা লাভবান হয়েছে তা চিহ্নিত করা। পাশাপাশি, তদন্তকারীরা নথিপত্র ও ডিজিটাল প্রমাণ খুঁজছেন, যাতে কথিত ভুয়ো আইটিসি নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ কাঠামো এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির ভূমিকা নির্ধারণ করা যায়।
তল্লাশি ও তদন্ত সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য এখনও ইডির তরফে জানানো হয়নি।
—আইএএনএস


















