বেঙ্গালুরু, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): ধর্মীয় আচরণ ও উপাসনার পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকলেও বিশ্বাস ও ভক্তির মূল মূল্যবোধ একই—এই বার্তা দিয়ে কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার রবিবার বলেন, সমতা, ভ্রাতৃত্ব এবং মানবিকতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত।
বেঙ্গালুরুর এমজি রেলওয়ে কলোনির ইম্যাকুলেট কনসেপশন চার্চের ১২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিবকুমার বলেন, “আমি বহু নামে এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করি।”
তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্ম নিজেদের রীতি ও ঐতিহ্য অনুসরণ করে ভক্তির সঙ্গে উপাসনা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শান্তি, সমাজসেবা ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতাই ধর্মের মূল উদ্দেশ্য।
শিবকুমার বলেন, “ধর্ম অনেক, কিন্তু নীতি এক। ঈশ্বরের নাম অনেক, কিন্তু ঐশ্বরিক সত্তা এক। উপাসনার পদ্ধতি ভিন্ন, কিন্তু ভক্তি এক। কাজ অনেক, কিন্তু নিষ্ঠা এক।”
হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যে তুলনা টেনে তিনি বলেন, এক ধর্মে প্রদীপ জ্বালানো হয়, অন্য ধর্মে মোমবাতি জ্বালানো হয়—কিন্তু উভয়ের অন্তর্নিহিত ভাবনা একই।
প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কেউ যেতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন শিবকুমার। তাঁর কথায়, একজন মানুষ কোন ধর্ম বা জাতিতে জন্মগ্রহণ করবেন, তা তাঁর নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই সহনশীলতা বজায় রেখে মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, “কোনও ধর্মই তার অনুসারীদের অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি করতে শেখায় না। যারা খ্রিস্টধর্মের সমালোচনা করেন, তারাও খ্রিস্টানদের পরিচালিত হাসপাতাল, স্কুল ও কলেজের সুবিধা নেন।”
সম্প্রতি সুমনাহল্লি কুষ্ঠ পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৫০ একর জমির লিজ নবীকরণের রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও তোলেন শিবকুমার। তিনি বলেন, ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সরকার মানবিক বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়েছে।
কেন্দ্রটির চিকিৎসার জন্য ওই জমি আদৌ প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, সরকার যখন চিকিৎসা কেন্দ্রের জন্য জমি দেওয়ার দায়িত্ব নেয়নি, তখন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই কুষ্ঠরোগীদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন।
শিবকুমার বলেন, “এই মানবিক গুণের কথা বিবেচনা করেই সরকার ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
নিজের শিক্ষাজীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি খ্রিস্টান স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং কখনও তাঁকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “গাছের জন্য যেমন শিকড় গুরুত্বপূর্ণ, মানুষের জন্যও বিশ্বাস তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস ও নীতি রয়েছে। তবে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপনের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।”
পারস্পরিক ভালোবাসা ও বিশ্বাসের উপর জোর দিয়ে শিবকুমার বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতি কোনও নির্দিষ্ট জাতির সম্পত্তি নয়। তাঁর কথায়, “প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে ঈশ্বর বাস করেন।”
সমতা ও ভ্রাতৃত্বকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি কবি কুভেম্পুর শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের স্বপ্নের কথাও স্মরণ করেন।
ইম্যাকুলেট কনসেপশন চার্চের ১২৫ বছরের সেবার প্রশংসা করে শিবকুমার বলেন, শিক্ষা ও সমাজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর দাবি, এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে শিক্ষিত পড়ুয়ারা নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে দেশের সম্পদে পরিণত হচ্ছেন।
গান্ধীনগরের বিধায়ক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী দীনেশ গুন্ডু রাও প্রতিষ্ঠানটির জন্য আরও সরকারি সহায়তার যে দাবি জানিয়েছেন, তার প্রসঙ্গে শিবকুমার বলেন, তিনি শীঘ্রই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। গান্ধীনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নেও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বেঙ্গালুরুর আর্চবিশপ পিটার মাচাদো, প্রাক্তন মন্ত্রী গুন্ডু রাও, ফাদার আমল রাজ ক্রিস্টিন, জ্যাকব ইয়াক্কালাম-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



















