লিসবন, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতীয় নৌবাহিনীর পালতোলা প্রশিক্ষণ জাহাজ আইএনএস সুদর্শনী পর্তুগালের লিসবনে পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রবিবার জানিয়েছে, ‘লোকায়ন ২৬’ সমুদ্রযাত্রার অংশ হিসেবে সাত মাসে এটি জাহাজটির ১৫তম বন্দর সফর।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২২ আগস্ট ২০২৬ লিসবনে পৌঁছয় আইএনএস সুদর্শনী। তিন-মাস্তুলবিশিষ্ট এই পালতোলা জাহাজটি ঐতিহ্যবাহী নৌচালনা ও সমুদ্রযাত্রার দক্ষতা প্রদর্শন করে তাগুস নদী দিয়ে বন্দর এলাকায় প্রবেশ করে।
লিসবন সফরের সময় জাহাজের ক্রু ও প্রশিক্ষণার্থীরা পর্তুগিজ নৌবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব, স্থানীয় প্রশাসন এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে পেশাদারি মতবিনিময়, ক্রস-ডেক পরিদর্শন এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
মন্ত্রক জানিয়েছে, সাত মাসের যাত্রাপথে লিসবন আইএনএস সুদর্শনী-র ১৫তম বন্দর সফর। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী সামুদ্রিক যোগাযোগ এবং সদিচ্ছার সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে। ‘লোকায়ন ২৬’-এর মাধ্যমে জাহাজটি বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করছে এবং অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করছে।
এর আগে গত সপ্তাহে পর্তুগালের আজোরেস দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী সাও মিগেল দ্বীপের পোন্তা দেলগাদা বন্দরে সফর শেষ করে আইএনএস সুদর্শনী। সেখানে পর্তুগিজ নৌবাহিনীর সঙ্গে পেশাদারি ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সামুদ্রিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে।
পোন্তা দেলগাদায় পর্তুগিজ নৌবাহিনীর পালতোলা প্রশিক্ষণ জাহাজ এনআরপি সাগরেস-এ একটি আনুষ্ঠানিক ডেক রিসেপশনের আয়োজন করা হয়। পরে আইএনএস সুদর্শনী-তেও স্থানীয় সামরিক নেতৃত্ব, কূটনীতিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য পাল্টা ডেক রিসেপশনের আয়োজন করা হয়।
১৫ আগস্ট ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসও পোন্তা দেলগাদায় উদযাপন করে আইএনএস সুদর্শনী। জাহাজটি বিশেষভাবে সাজানো হয় এবং গর্ব ও দেশাত্মবোধের সঙ্গে ‘কালারস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এর আগে আগস্টের শুরুতে আমেরিকা থেকে ১৯ দিনের ট্রান্স-আটলান্টিক যাত্রা শেষে পর্তুগালের জলসীমায় প্রবেশ করে আইএনএস সুদর্শনী। ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছিল, ১৩ আগস্ট বোস্টন থেকে ১৯ দিনের সমুদ্রযাত্রার পর জাহাজটি আজোরেসের পোন্তা দেলগাদায় পৌঁছয়। ‘লোকায়ন ২৬’ অভিযানের ক্ষেত্রে এটিকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।



















