ইম্ফল, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): মণিপুরের বিভিন্ন জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক যৌথ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৮ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। ধৃতদের মধ্যে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-র মামলায় ঘোষিত পলাতক অভিযুক্ত এবং একাধিক নিষিদ্ধ সংগঠনের স্বঘোষিত কমান্ডারও রয়েছেন বলে রবিবার পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, মণিপুর পুলিশ, অসম রাইফেলস এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান চালিয়ে থৌবাল, কাকচিং, তেংনোপাল, ইম্ফল পূর্ব এবং ইম্ফল পশ্চিম জেলা থেকে এই ৮ জনকে গ্রেফতার করে।
ধৃতরা নিষিদ্ধ পিপলস লিবারেশন আর্মি ও তাদের রাজনৈতিক শাখা রেভলিউশনারি পিপলস ফ্রন্ট, পিপলস রেভলিউশনারি পার্টি অব কাংলেইপাক, কাংলেই ইয়াওল কান্না লুপ এবং কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি-এর সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, ধৃত জঙ্গিরা সাধারণ মানুষের উপর হামলা, অপহরণ, জোর করে ‘চাঁদা’ আদায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠনে যুবকদের নিয়োগের মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
ধৃত ৮ জনের মধ্যে দু’জনকে পিএলএ-র স্বঘোষিত ক্যাপ্টেন থিয়াম বোইচা সিং ওরফে বালিন (২৮) এবং কেওয়াইকেএল-এর স্বঘোষিত ক্যাপ্টেন চোংথম লুখোই ওরফে রাকেশ (৪৫) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে থিয়াম বোইচা সিংয়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর চুরাচাঁদপুর জেলার বেহিয়াংয়ে অসম রাইফেলসের জওয়ান এবং আরও ছয়জনের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত দলের সদস্য ছিল সে।
পুলিশের দাবি, ওই ঘটনায় এনআইএ-র তদন্তাধীন মামলায় থিয়াম বোইচা সিং তৃতীয় অভিযুক্ত এবং তাকে ঘোষিত পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ধৃতদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি, চাঁদা আদায়ের রসিদ, নগদ টাকা, নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির সিল, লেটারহেড এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, মণিপুরে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও মণিপুর পুলিশের যৌথ উদ্যোগে জঙ্গিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যের প্রান্তিক এলাকা, মিশ্র জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় তল্লাশি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান চালানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে উপত্যকা ও পার্বত্য জেলাগুলিতে মোট ১১১টি নাকা ও চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে। সেখানে জঙ্গি, সমাজবিরোধী ব্যক্তি এবং সন্দেহজনক যানবাহনের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়ক দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বহনকারী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে। সড়কের স্পর্শকাতর অংশগুলিতে কনভয় সুরক্ষা এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।



















