নয়াদিল্লি, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) প্রধান মায়াবতী। দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতিভিত্তিক সংরক্ষণের পরিবর্তে অর্থনৈতিক ভিত্তিতে সংরক্ষণের দাবিতে চলা বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী ও তাঁর দলের নেতারা সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর কোনও চেষ্টা করেননি। তাঁর দাবি, এতে কংগ্রেসের ‘সংরক্ষণবিরোধী মানসিকতা’ স্পষ্ট হয়েছে।
রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একাধিক পোস্টে মায়াবতী বলেন, যন্তর মন্তরে কিছু মানুষের অর্থনৈতিক ভিত্তিতে সংরক্ষণের দাবি এবং সংবিধানপ্রদত্ত এসসি, এসটি ও ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিরোধিতা কোনওভাবেই দেশের স্বার্থে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, সামাজিকভাবে সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ার সাংবিধানিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।
রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে মায়াবতী বলেন, একই দিনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একটি মামলায় এফআইআর দায়েরের দাবিতে সংসদ থানার বাইরে কয়েক ঘণ্টা ধর্নায় বসেছিলেন। সেই অবস্থানের সঙ্গে তাঁর দলের কোনও আপত্তি নেই বলেও উল্লেখ করেন বিএসপি প্রধান।
তবে তাঁর অভিযোগ, সংসদ থানার কাছেই যন্তর মন্তরে দলিত ও অন্যান্য বঞ্চিত শ্রেণির জন্য জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ চললেও রাহুল গান্ধী বা তাঁর কোনও কংগ্রেস সহকর্মী সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেননি।
মায়াবতী এই প্রসঙ্গে ড. ভীমরাও আম্বেদকরের বক্তব্যের উল্লেখ করে বলেন, জাতিভেদ প্রথা পরিত্যাগ করাই প্রকৃত দেশপ্রেম। তাঁর দাবি, এসসি, এসটি ও ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জাতিভেদের অমানবিকতার শিকার হয়েছেন। তাই তাঁদের অধিকার রক্ষায় প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয় দেওয়া উচিত।
অর্থনৈতিক ভিত্তিতে সংরক্ষণের দাবির প্রসঙ্গে মায়াবতী বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি প্রতিবছর একাধিক প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। কিন্তু দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে সাধারণ মানুষ যদি সেই সুবিধা যথাযথভাবে না পান, তার দায় সরকারের ব্যবস্থার।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশে অর্থনৈতিক ভিত্তিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থাও ইতিমধ্যে রয়েছে। কিন্তু উচ্চবর্ণের দরিদ্র পরিবারগুলিও এর যথাযথ সুবিধা পাচ্ছে না এবং অনেক ক্ষেত্রে তারাও প্রতারিত হচ্ছেন।
মায়াবতীর অভিযোগ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও জাতপাতনির্ভর সরকারি ব্যবস্থার কারণে সংবিধানের সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধানগুলি দীর্ঘদিন ধরে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে স্বাধীনতার এত বছর পরেও এসসি, এসটি ও ওবিসি সম্প্রদায়ের বহু মানুষ দারিদ্র্য, জাতিগত বিদ্বেষ, শোষণ ও অত্যাচারের শিকার হয়ে চলেছেন।
তিনি বলেন, সংরক্ষণবিরোধী কোনও শক্তিকে কোনও সরকারই আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেবে না—এটাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে ‘সস্তার রাজনীতি’ না করার জন্যও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান বিএসপি প্রধান।
________



















