রবিন্সভিল, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): নিউ জার্সি সফরে গুজরাটের উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী গুজরাটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি গত দুই দশকের রাজ্যের উন্নয়নযাত্রার কথা তুলে ধরে বলেন, সময়ের আগেই নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সুফল এখন পাচ্ছে গুজরাট।
কার্টেরেট পারফর্মিং আর্টস অ্যান্ড ইভেন্টস সেন্টারে ভারতীয়-মার্কিন গুজরাটি সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্যাটেল বলেন, ২০০৩ সালে যখন ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাট’-এর ভাবনা শুরু হয়েছিল, তখন খুব কম মানুষই এটিকে একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কল্পনা করেছিলেন।
গুজরাটি ভাষায় তিনি বলেন, “সেই সময় কেউ ভাবেননি যে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট বিনিয়োগের একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে। গুজরাট তখনই বিষয়টি নিয়ে ভেবেছিল এবং আজ আমরা তার সুফল পাচ্ছি।”
তিনি একইভাবে গিফট সিটির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। প্যাটেল বলেন, পূর্ণ সম্ভাবনা উপলব্ধি হওয়ার আগেই গুজরাট গিফট সিটিকে একটি বৈশ্বিক আর্থিক ও প্রযুক্তি শহর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিল।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০৪৭ সাল পর্যন্ত গুজরাটের উন্নয়নের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় রাজ্যকে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য নির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেই ক্ষেত্রগুলির অবদানের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের কাছে গুজরাটের আকর্ষণের ভিত্তি হিসেবে নীতি, স্বচ্ছতা ও পরিকাঠামোর ওপর জোর দেন প্যাটেল। তিনি বলেন, উন্নয়ন করতে হলে শক্তিশালী পরিকাঠামো অপরিহার্য। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য মজবুত ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী গুজরাটিদের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবাসে সফল হওয়ার পাশাপাশি যে দেশে তাঁরা বসবাস করছেন, সেই দেশের উন্নয়নেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা উচিত। একইসঙ্গে ভারত ও গুজরাটের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
প্যাটেল বলেন, “আমরা যেখানেই বসবাস করি না কেন, সেই দেশের জন্য আমাদের দৃঢ়ভাবে অবদান রাখতে হবে।”
২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার প্রধানমন্ত্রী মোদির লক্ষ্যকে সামনে রেখে গুজরাটে বিনিয়োগ, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আসার জন্য প্রবাসী গুজরাটিদের আহ্বান জানান তিনি।
নিউ জার্সি সফরের দ্বিতীয় পর্বে রবিন্সভিলের বিখ্যাত বিএপিএস স্বামিনারায়ণ অক্ষরধামে যান প্যাটেল। সেখানে বিনিয়োগ ও শিল্পনীতির বদলে ভারতীয় ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও সেবার অন্য এক রূপের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি।
বিএপিএস-এর অভ্যন্তরীণ জনসংযোগ বিভাগের নেতৃত্বে থাকা প্রবীণ সন্ন্যাসী ব্রহ্মবিহারী স্বামী আইএএনএস-কে জানান, মন্দিরের বিশাল আকার, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং চারপাশের শান্ত পরিবেশে মুখ্যমন্ত্রী গভীরভাবে প্রভাবিত হন।
তিনি বলেন, “তিনি অত্যন্ত শান্ত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে গভীরভাবে স্পর্শিত হয়েছিলেন।”
ব্রহ্মবিহারী স্বামী জানান, প্যাটেল মন্তব্য করেন, বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত থেকে কেউ এখানে এলে শান্তির অনুভূতি পাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী নির্মীয়মাণ প্রায় ১ লক্ষ বর্গফুটের স্বামিনারায়ণ অক্ষরধাম মিউজিয়ামের কাজও পরিদর্শন করেন। এই শিক্ষামূলক মিউজিয়ামে ৮৫টি ইমার্সিভ ডায়োরামা, ৪০টি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা এবং ২০০টি জীবন্তসদৃশ মূর্তি থাকবে। প্রদর্শনীগুলিতে হিন্দু সভ্যতা, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, স্থাপত্য ও মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে।
প্রস্তাবিত প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে ধোলাভিরা, রানির কি ভাভ, গুজরাটের একটি ঐতিহ্যবাহী হাভেলি এবং কোনার্কের চাকা।
ব্রহ্মবিহারী স্বামীর কথায়, মিউজিয়াম দেখে প্যাটেলের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল—“আপনারা ভারতের সংস্কৃতিকে আবার জীবন্ত করে তুলেছেন।”
‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাট’-এর প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রে আসা মুখ্যমন্ত্রী অক্ষরধামের নির্মীয়মাণ মিউজিয়ামে ‘ভাইব্র্যান্ট’ শব্দটির আরও একটি অর্থ খুঁজে পান। ব্রহ্মবিহারী স্বামীর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, প্যাটেল বলেন, “এখানেই ভারতের সংস্কৃতি প্রাণবন্ত।”
মিউজিয়ামটি বিভিন্ন পেশা ও প্রজন্মের স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে। ছাত্র, ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা নিউ জার্সিতে এসে দীর্ঘ সময় কাজ করছেন এবং প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে নিজেদের পেশাগত ও পারিবারিক সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ১২,৫০০-রও বেশি স্বেচ্ছাসেবীর অবদানের পর অক্ষরধাম কমপ্লেক্সটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।



















