চেন্নাই, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): তামিলনাড়ুর সাতটি শূন্য বিধানসভা আসনে সম্ভাব্য উপনির্বাচনকে সামনে রেখে বড়সড় কৌশল তৈরি করছে শাসকদল টিভিকে। এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় আগের সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আনা হতে পারে।
তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বর্তমানে সাতটি আসন শূন্য রয়েছে। এগুলি হল তিরুচি ইস্ট, পেরুন্দুরাই, মাদুরান্থকম, ধরমপুরী, আম্বাসমুদ্রম, করুর এবং বিরালিমালাই।
এর মধ্যে তিরুচি ইস্ট, করুর, বিরালিমালাই, পেরুন্দুরাই ও আম্বাসমুদ্রম আসনে নির্বাচনের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা নির্বাচনী মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় এতদিন উপনির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে ওই পাঁচ আসনে উপনির্বাচনের ওপর জারি থাকা স্থগিতাদেশের মেয়াদ ২৪ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। ফলে নির্বাচন কমিশন শিগগিরই সাতটি আসনেই উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই সরকার গঠন করা টিভিকের জন্য এই উপনির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১১৮টি আসন প্রয়োজন হলেও টিভিকে পেয়েছে ১০৭টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দলটি ১১টি আসন পিছিয়ে রয়েছে।
সরকার গঠনে টিভিকে-কে সমর্থন করেছে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক এবং লিবারেশন টাইগার্স অব তামিলনাড়ু পার্টি, সিপিআই, সিপিআই(এম) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের দু’জন করে বিধায়ক। কংগ্রেস ও আরও দুই শরিক দলের প্রতিনিধিরা মন্ত্রিসভায় থাকায় তাঁদের সমর্থন প্রত্যাহারের সম্ভাবনা কম। তবে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কোনও ইস্যুতে মতপার্থক্য তৈরি হলে দুই কমিউনিস্ট দল তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবে টিভিকে যদি সাতটি উপনির্বাচনেই জয় পায়, তাহলে বিধানসভায় তাদের আসনসংখ্যা বেড়ে ১১৪ হবে। সেক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে মাত্র চারটি আসন দূরে থাকবে দলটি। কংগ্রেস বা ছোট শরিকদের সমর্থন অব্যাহত থাকলে সরকারের পুরো মেয়াদে স্থায়িত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে।
গত ১৯ আগস্ট বিধানসভা অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সরকারের সম্ভাব্য নির্বাচনী কৌশলের ইঙ্গিত দেন। বিরোধীরা মন্ত্রীদের করা বিভিন্ন অভিযোগের পক্ষে নথিপত্র ও প্রমাণ দাবি করলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, একাধিক ক্ষেত্র সংক্রান্ত প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ফাইল তাঁর টেবিলে রয়েছে।
বিজয় বলেন, “আমি এটা বলতে চাইনি, কিন্তু ওরা প্রমাণ চাইছে। প্রমাণসহ সবকিছুই আমার টেবিলে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, উপযুক্ত সময়ে ওই ফাইলগুলি প্রকাশ্যে আনা হবে। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলে, আসন্ন উপনির্বাচনের প্রচারে এই নথি ও অভিযোগগুলি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
_______



















