মুম্বই, ২১ আগস্ট (আইএএনএস): মহারাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হল শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)। দলের মুখপত্র ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, একসময় মহিলাদের জন্য নিরাপদ হিসেবে পরিচিত মহারাষ্ট্র বর্তমানে দেশে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
সম্পাদকীয়তে বিশেষভাবে পুনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পুনে জেলার সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি সাম্প্রতিক একাধিক যৌন অপরাধের ঘটনা জেলার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে দাবি করা হয়।
সম্প্রতি পুনের জুনর তালুকের পিম্পলওয়ান্ডি গ্রামে ৯ বছরের এক শিশুকে সাইকেল শেখানোর নাম করে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে ‘সামনা’। অভিযোগ, ২৫ বছরের এক যুবক শিশুটিকে আখের খেতে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনের পর মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে সে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে শিশুটির খোঁজেও যোগ দেয় বলে অভিযোগ। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তে তার ভূমিকা প্রকাশ্যে আসে এবং পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শিশুটির দেহ উদ্ধার করা হয়।
পুনে জেলা পুলিশ দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচারের আশ্বাস দিলেও, শুধুমাত্র এই ধরনের আশ্বাস দিয়ে অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উদ্ধবপন্থী শিবসেনা। নাসরাপুরে এক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ৬৫ বছরের এক অভিযুক্তকে ৫৮ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরও পিম্পলওয়ান্ডিতে একই ধরনের অপরাধ ঘটায় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি বলেও সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি অপরাধের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। হিঙ্গোলির হাট্টা এলাকায় ১৩ আগস্ট এক বিশেষভাবে সক্ষম কিশোরীকে বিস্কুট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আখের খেতে নিয়ে চারজনের গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ইতিমধ্যে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নালাসোপারায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে দুই যুবকের যৌন নির্যাতন এবং সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। ভায়ান্দরে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ছয়জন মিলে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং পুনের ওয়াকাডে ১০ বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৬৫ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।
শিবসেনা ইউবিটির অভিযোগ, অপরাধের পর পুলিশি গ্রেফতার ও আদালতের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলেও অপরাধ সংঘটনের আগেই তা ঠেকানোর মতো যথেষ্ট ভয় বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য প্রশাসন। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের ধারণা অপরাধীদের সাহস জোগাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।
সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজ্যে কিশোর-কিশোরীদের বিরুদ্ধে হিংসা ও হত্যার ২৩ হাজারের বেশি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। মহিলাদের বিরুদ্ধে সামগ্রিক অপরাধের ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র বর্তমানে দেশে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী, যিনি স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বেও রয়েছেন, বিধানসভায় মহারাষ্ট্রের সামগ্রিক অপরাধের পরিসংখ্যানে অষ্টম স্থানে থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকার দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র দফতরের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছে উদ্ধবপন্থী শিবসেনা।
।।।।।।।।



















