আগরতলা, ১৩ আগস্ট: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআইএম নেতা মানিক সরকারের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘বিস্ময়কর’ ও ‘অপরাধমূলক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার দলীয় এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারের উদ্যেশ্যে বলেন, “আপনারা যদি ভবিষ্যতে জনজীবনের যন্ত্রণাদায়ক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার জন্যে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিসরে জঙ্গি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বড় ধরনের আন্দোলন সংগঠিত করতে ভারতবর্ষের মানুষ।”
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার অভিযোগ, দীর্ঘ ৩৫ বছর রাজ্য শাসনের পর ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর বাম নেতৃত্বের এমন বক্তব্য তাঁদের রাজনৈতিক মানসিকতা ও অবস্থানকে আরও একবার স্পষ্ট করেছে। তাঁর দাবি, আন্দোলনের নামে কোনও ধরনের অগণতান্ত্রিক বা উগ্রপন্থী মানসিকতাকে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা দখলের জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের কথা বলা হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে সশস্ত্র সংগ্রামের যে রাজনৈতিক দর্শন একসময় সামনে এসেছিল, তার পরিণতিও ইতিহাসে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
মানিক সাহা আরও বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার পর বর্তমানে বিরোধী আসনে বসে বাম নেতৃত্বের বক্তব্যে তাঁদের ‘অসহিষ্ণু মানসিকতা’ প্রকাশ পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ, সরকারি কর্মচারী, শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের স্বার্থের কথা বললেও আন্দোলনের ধরন নিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু সেই আন্দোলন যদি সশস্ত্র বা উগ্রপন্থী পথে পরিচালিত করার ইঙ্গিত দেয়, তাহলে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের বক্তব্যকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ত্রিপুরায় শান্তি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠন যেন আন্দোলনের নামে অশান্তি বা হিংসার পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সেদিকেও সকলের নজর রাখা প্রয়োজন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের বক্তব্য এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোরদার চর্চা শুরু হয়েছে। দু’পক্ষের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



















