নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): সংসদের বাদল অধিবেশনে লাগাতার অচলাবস্থা তৈরি করার জন্য বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদের ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও সংসদ অচল করে রাখার প্রবণতা তাদের ‘নৈরাজ্যবাদী মানসিকতা’ প্রকাশ করছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদ চত্বরে দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও শেয়ার করে নিতিন নবীন লেখেন, “সংসদে বিরোধীদের লাগাতার অচলাবস্থা তাদের নৈরাজ্যবাদী মানসিকতা প্রকাশ করছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার বারবার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি দেখালেও বিরোধীরা আলোচনা থেকে পালিয়ে সংসদের কাজকর্ম ব্যাহত করছে। সাধারণ মানুষ এখন কে আসলে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে, তা বুঝতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি সভাপতি।
এর আগে বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আলোচনার প্রস্তাব কার্যত প্রত্যাখ্যান করে পড়ুয়াদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকেই দায়ী করেন। রাহুলের অভিযোগ, জন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল, তার জবাব শাহকে দিতে হবে।
NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ২০ জুলাই সংসদমুখী পড়ুয়াদের মিছিলের সময় পুলিশের কথিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য শাহ নিজে প্রস্তুত বলে জানিয়েছিলেন। একইসঙ্গে বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদে আলোচনা হতে দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
বিরোধীরা বারবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে উপস্থিতি এবং পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর বক্তব্য দাবি করে আসছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বাদল অধিবেশনে একাধিকবার সংসদের কাজ ব্যাহত হয়েছে।
সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের শাহ বলেন, তাঁকে সংসদ এড়িয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। তিনি জানান, অধিবেশন শুরুর পর থেকে তিনি নিয়মিত সংসদে আসছেন এবং নিজের কক্ষে বসছেন। তবে বিরোধীরা দুই কক্ষেই সংসদের কাজকর্ম চলতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাহ বলেন, “‘নিখোঁজ’, ‘পালিয়ে গিয়েছেন’, ‘পলাতক’—এই ধরনের শব্দ সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের জনজীবন ও সংসদীয় পরিসরে ক্রমশ বেশি শোনা যাচ্ছে। অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকে আমি নিয়মিত সংসদে আসছি এবং নিজের কক্ষে বসছি। কিন্তু বিরোধীরা দুই কক্ষেই সংসদের কাজ চালাতে দিচ্ছে না। তাহলে সেখানে গিয়ে আমি কী করব?”
আলোচনার সময়সীমা নিয়েও প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বিরোধীরা দুপুর ২টার মধ্যে স্পিকারের কাছে চিঠি দিলে বুধবার বিকেল ৩টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
শাহ বলেন, তিনি সংসদে বসে সকলের বক্তব্য শুনবেন এবং প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেবেন। সরকারের কিছুই গোপন করার নেই বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে কেন বিরোধীরা আলোচনা হতে দিতে চাইছিল না, সেই বিষয়েও আলোচনা করতে প্রস্তুত বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার যে কোনও বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে সংসদকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দিতে হবে।
–আইএএনএস























