আগরতলা, ১২ আগস্ট: সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধীনে অঙ্গনওয়াড়ি সংক্রান্ত কাজে যুক্ত বিভিন্ন এনজিও কর্মীদের দীর্ঘ নয় মাস ধরে বেতন বঞ্চনার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। তাই বাধ্য হয়ে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তার কাছে ডেপুটেশনে মিলিত হন তাঁরা।
অভিযোগ, ২০২৪ সালে সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধীনে বিভিন্ন এনজিওকে অঙ্গনওয়াড়ি দপ্তরের কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সূত্রে বেশ কিছু কর্মী কাজে যোগ দেন এবং নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস কাজ করার পর থেকেই তাঁদের বেতন সংক্রান্ত সমস্যা শুরু হয়। বর্তমানে টানা প্রায় নয় মাস ধরে তাঁরা বেতন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার দপ্তরের অধিকর্তার কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেও বেতন না পাওয়ায় তাঁদের আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। সংসার চালানো থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোও কঠিন হয়ে উঠেছে। দ্রুত তাঁদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
এদিন কর্মীরা আরও অভিযোগ করেন, এই কাজের ক্ষেত্রে আগে নির্দিষ্ট কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি সামনে এনে অনেককে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
তাঁদের বক্তব্য, যদি কাজের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার নতুন কোনও শর্ত আরোপ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা এবং কর্মীদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত জানানো প্রয়োজন। হঠাৎ করে যোগ্যতার প্রশ্ন তুলে কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়ে দিলে দীর্ঘদিন কাজ করে আসা কর্মীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবেন বলে তাঁরা জানান।
ডেপুটেশনকারীদের দাবি, একদিকে নয় মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে, অন্যদিকে চাকরি থাকবে কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য দপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।



















