নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ-র সংশোধনী নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান ও সাংসদ অখিলেশ যাদব। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘুদের নিশানা করা এবং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যেই এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিরোধী দলগুলি বিলটি প্রত্যাহার অথবা যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) কাছে পাঠানোর দাবি জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অখিলেশ যাদব প্রশ্ন তোলেন, এফসিআরএ সংশোধনীর প্রয়োজনীয়তা কী। তিনি বলেন, “এফসিআরএ-তে সংশোধনী কেন আনা হচ্ছে? শুধুই কি সংখ্যালঘুদের দমন করার জন্য? শুধুই কি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য?” পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর কথায়, বিমানবন্দর তৈরি করা হচ্ছে, অথচ সেখানে জল জমছে; এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে, কিন্তু সেখানে গর্ত রয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, সরকার আসলে কী করছে।
সাম্প্রতিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে অখিলেশ বলেন, “আমাদের বিমান চালানো এবং প্রদেশ চালানোর মধ্যে একটা মিল দেখা যাচ্ছে।”
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদও প্রস্তাবিত আইনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হলে কোনও আইন পাশ করার অর্থ নেই। তাঁর দাবি, দেশে ইতিমধ্যেই বহু আইন পাশ হয়েছে, কিন্তু সেগুলির যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সেগুলি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে।
সমাজবাদী পার্টির আরেক সাংসদ রামগোপাল যাদব বলেন, এই সংশোধনী আনার কোনও প্রয়োজন ছিল না। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে আদিবাসী এলাকায়, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মিশনারি এবং এনজিওগুলি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
রামগোপাল বলেন, ঝাড়খণ্ড, গুজরাটের ডাং অঞ্চল-সহ বিভিন্ন আদিবাসী এলাকায় মিশনারি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও এনজিওগুলির কাজ অনেক ক্ষেত্রে সরকারের কাজের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। এগুলির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে লক্ষ লক্ষ দরিদ্র শিশু শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সিপিআই সাংসদ পি. সন্তোষ কুমার জানান, বিরোধী দলগুলি এফসিআরএ সংশোধনী বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানিয়েছে। তাঁর কথায়, এই সংশোধনীর কোনও প্রয়োজন নেই। তবে জেপিসিতে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সেখান থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী নন।
আরএসপি সাংসদ এন. কে. প্রেমচন্দ্রও বিলটি প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য দাতব্য সংস্থা, এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা বলে মনে হচ্ছে। তাঁর দল ধারাবাহিকভাবে এফসিআরএ বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে বলেও জানান তিনি।
_______



















