তিরুবনন্তপুরম, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণে নগরায়ণ দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন ষোড়শ অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগড়িয়া। বুধবার রাজভবন আয়োজিত ‘লোক ভবন কনভারসেশনস’-এর ষষ্ঠ পর্বে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে শহরাঞ্চল’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পানাগড়িয়া বলেন, ভারত ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নত ও বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি হয়ে ওঠার যে লক্ষ্য নিয়েছে, তা উৎপাদনশীল, স্থিতিস্থাপক এবং দক্ষভাবে পরিচালিত শহর ছাড়া বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, কার্যত প্রতিটি উন্নত দেশেই নগরায়ণের হার অনেক বেশি। ভারতেরও নগর উন্নয়নের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তাই নগরায়ণকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের কোনও রকম সংকোচ থাকা উচিত নয়।
ষোড়শ অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যানের মতে, নগরায়ণের লক্ষ্য শুধু শহরে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। শহরগুলিকে ব্যবসা ও কর্মসংস্থান-বান্ধব করে তুলতে হবে, যাতে গ্রামাঞ্চল থেকে মানুষ শহরে এসে কাজের সুযোগ পান এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই নগরায়ণকে চালিত করে।” কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ বসতি এবং বড় শহর ও শহরতলির প্রান্তিক এলাকাগুলিও ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত নগরাঞ্চলে রূপান্তরিত হবে বলে তিনি জানান।
ভারতের শহরগুলিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে শহুরে জমির অপ্রতুলতা ও উচ্চমূল্য অন্যতম বড় বাধা বলেও উল্লেখ করেন পানাগড়িয়া। শিল্প ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের জন্য বড় জমি অধিগ্রহণ এখনও অত্যন্ত কঠিন, কারণ দেশে জমির মালিকানা ব্যাপকভাবে খণ্ডিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই জমির মালিকানার নির্দিষ্ট নথি পাওয়া যায় না।
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুর প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই প্রকল্পের জন্য হাজার হাজার পৃথক জমির টুকরো অধিগ্রহণ করতে হয়েছিল। এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে জমির মালিকানা তুলনামূলকভাবে কম খণ্ডিত হওয়ায় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয়।
উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য জমির সহজলভ্যতা বাড়ানো এবং জমি অধিগ্রহণ ও নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
পানাগড়িয়া আরও বলেন, নগর প্রশাসনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শহর উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় প্রয়োজন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক এমন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে শহরগুলিতে।
তাঁর মতে, নগর পরিকল্পনা এবং জমির ব্যবহার সংক্রান্ত নীতিগুলি এমন হওয়া উচিত, যা নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি উদ্যোগপতিদের নতুন ব্যবসা গড়ে তুলতেও উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর বলেন, নগরায়ণকে কোনওভাবেই পাশ্চাত্যায়নের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “আমাদের শিকড়ের ভিত্তিতেই নগরায়ণ শুরু হওয়া উচিত।” ভারতের নগর উন্নয়ন দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও চিন্তাধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, পাশ্চাত্যের মডেল হুবহু অনুসরণ করা নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজ্যপাল বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরায়ণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
—আইএএনএস



















