ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): মার্কিন আদালতের সিদ্ধান্তকে ‘বিনয় ও বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা’ সহকারে স্বাগত জানিয়েছেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। তাঁর, সাগর আদানি এবং সহযোগী বিনীত জৈনের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ মার্কিন আদালত খারিজ করার পর এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক নিকোলাস গারাউফিস আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ ও ওয়্যার জালিয়াতি সংক্রান্ত ফৌজদারি অভিযোগগুলি স্থায়ীভাবে খারিজ করে দেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে গৌতম আদানি বলেন, “এই কঠিন সময়জুড়ে সত্য, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের প্রতি আমাদের আস্থা অটুট ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “যাঁরা আমাদের প্রতি, ব্যবস্থার প্রতি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ভারতের সক্ষমতার প্রতি কখনও আস্থা হারাননি, তাঁদের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।”
এদিকে, আদালত আদানি ও মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) মধ্যে একটি নিষ্পত্তিও চূড়ান্ত করেছে। এর আওতায় আদানিরা মার্কিন সরকারকে ১ কোটি ৮০ লক্ষ ডলার প্রদান করবেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনা দেওয়ানি সিকিউরিটিজ জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হবে।
গৌতম আদানি তাঁর পোস্টে বলেন, “আমরা যা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই করে যাব—দেশের জন্য নির্মাণ করা, এমন মূল্য তৈরি করা যা আমাদের পরেও টিকে থাকবে এবং নিজেদের থেকেও বৃহত্তর একটি উদ্দেশ্যের সেবা করা। এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”
এর আগে গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ একটি ফেডারেল আদালতকে জানিয়েছিল, মামলার কেন্দ্রে থাকা সিকিউরিটিজ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কোনও আর্থিক ক্ষতি হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টি তাদের নিজেদের ফৌজদারি মামলাকে আরও দুর্বল করে এবং সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ খারিজের আবেদন জানানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।
নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা আদালতে দাখিল করা বিস্তারিত নথিতে বিচার বিভাগ জানায়, সিকিউরিটিজ জালিয়াতির মামলার অন্যতম প্রধান দুর্বলতা ছিল বিনিয়োগকারীদের কোনও আর্থিক ক্ষতি না হওয়া।
নথিতে বলা হয়, মামলায় থাকা সিকিউরিটিজ থেকে “এক পয়সাও কখনও হারাননি” কোনও বিনিয়োগকারী। আরও জানানো হয়, মামলার সঙ্গে যুক্ত চারটি নোটের মধ্যে দু’টি সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি দু’টির অর্থও বর্তমানে পরিশোধিত রয়েছে। এগুলির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিতও নেই বলে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছিল।
–আইএএনএস



















