কলকাতা, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ২০২৪ সালের আগস্টে জুনিয়র চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করা সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) হাসপাতালের এক মহিলা কর্মীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে।
সূত্রের খবর, ৯ আগস্ট সকালে হাসপাতালের সেমিনার রুমে জুনিয়র চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর তাঁর পরিবারকে দুর্ঘটনার খবর জানাতে প্রথম ফোন করেছিলেন ওই মহিলা কর্মীই। পরে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরিবারকে করা একাধিক ফোনে তিনি পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছিলেন বলে মৃতার পরিবারের তরফে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত মোবাইলটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এই ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।
নতুন সিবিআই এসআইটির সদস্যরা খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে এবং কার নির্দেশে হাসপাতালের ওই মহিলা কর্মী মৃতার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরবর্তী ফোনে তিনি ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছিলেন বলে পরিবারের যে অভিযোগ, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, ফোনের কল রেকর্ড থেকে ধর্ষণ ও খুনের নেপথ্যে বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের আগে ওই মহিলা কর্মীর কাছে কার কার ফোন এসেছিল এবং তিনি কাদের ফোন করেছিলেন, সেই তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, ফরেন্সিক পরীক্ষার মাধ্যমে মোবাইল ফোন থেকে মুছে ফেলা কোনও তথ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি কল লগের বাইরে অন্য কোনও ডিজিটাল যোগাযোগ থেকে নতুন সূত্র পাওয়া যায় কি না, তাও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।
এদিকে, রবিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২০২৪ সালের আগস্টে আরজি কর ধর্ষণ-খুনের নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি দাহ করার অভিযোগেরও নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির একটি শ্মশানে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় দাহ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
—আইএএনএস
























