আগরতলা, ৮ আগস্ট: পুকুরে স্নান করতে গিয়ে জলে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হল পাঁচ বছরের শিশু আঁখি রাই আক্তারের। ঘটনাটি ঘটেছে নিদয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কাচিগাং পাড়ায়। বর্তমানে শিশুটির মৃতদেহ কাঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মর্গে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, মৃত শিশুর বাবা প্রয়াত জহির হোসেন। মা পারুল বেগম। প্রায় দুই বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চরম আর্থিক কষ্টের মধ্যে সংসার চালিয়ে আসছিলেন পারুল বেগম। তিন সন্তানই ছোট হওয়ায় সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের দেখভাল করাও ছিল তাঁর কাছে অত্যন্ত কঠিন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে বেরিয়ে যান পারুল বেগম। সেই সময় তিন ভাইবোন একসঙ্গে বাড়ির পাশে একটি পুকুরে স্নান করতে যায়। পরে বড় দুই সন্তান বাড়িতে ফিরে এলেও আঁখি রাই আক্তার আর বাড়ি ফেরেনি।
বড় দুই সন্তান প্রতিবেশীদের জানায়, আঁখি রাই পুকুর থেকে কোথায় চলে গেছে, তা তারা জানে না। এরপরই প্রতিবেশীরা পুকুরে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। পাশাপাশি শিশুটির মাকেও খবর দেওয়া হয়। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর পুকুরের জলের গভীর অংশ থেকে আঁখি রাই আক্তারের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
তড়িঘড়ি শিশুটিকে নিদয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে কাঠালিয়া সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রেফার করা হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে যাত্রাপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর বিজয় চক্রবর্তী-সহ পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা পারুল বেগম। স্বামীকে হারানোর পর অন্যের বাড়িতে কাজ করে তিন সন্তানকে মানুষ করার যে লড়াই তিনি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তার মাঝেই এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।






















