বক্সনগর, ৮ আগস্ট: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে সোনামুড়া বন সাব-ডিভিশনের অন্তর্গত বক্সনগর রেঞ্জের উদ্যোগে রহিমপুরে পালিত হলো ৭৭তম বন মহোৎসব-২০২৬। শনিবার সকাল ১১টায় রহিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কমিউনিটি হলে আয়োজিত হয় মহকুমাভিত্তিক এই বন মহোৎসব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বক্সনগর বিধানসভার বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন, বক্সনগর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন স্বপ্না নম, ভাইস চেয়ারপার্সন সেলিনা আক্তার, বক্সনগরের বিশিষ্ট সমাজসেবী অনিল চন্দ্র দাস, বক্সনগর ব্লকের বিডিও সঞ্জীব কুমার পাল, সোনামুড়া বন মহকুমা আধিকারিক চন্দন সরকার,বক্সনগর রেঞ্জ অফিসার শেখর লোধ, রহিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আলেয়া খাতুন-সহ বন দপ্তর,প্রশাসনের আধিকারিক,জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বন মহোৎসব উপলক্ষে রহিমপুর স্কুল, বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে অতিথি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। শুধু চারা রোপণ নয়, রোপণ করা প্রতিটি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন বলেন, “গাছের কোনো বিকল্প নেই, গাছই আমাদের জীবন।” পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গাছ শুধু আমাদের অক্সিজেন দেয় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয় রোধ, বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তিনি আরও বলেন, “শুধু বন মহোৎসবের দিনে গাছ লাগালেই হবে না, লাগানো প্রতিটি চারাকে বড় করে তোলার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে।” বেঁচে থাকার জন্য গাছ, জল ও আলোর গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বেশি করে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি অপ্রয়োজনে গাছ কাটা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে আরও বেশি করে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বিধায়ক।বন মহকুমা আধিকারিক চন্দন সরকার বলেন, বন ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতিটি পরিবার যদি নিজেদের বাড়ির আশপাশে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার নিয়মিত পরিচর্যা করে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারাও বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এদিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রহিমপুর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
।।।।।






















