ভোপাল, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): অংশগ্রহণকারী দেশগুলির সংস্কৃতিমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে শনিবার ‘ভোপাল ঘোষণাপত্র’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী ব্রিকস সাংস্কৃতিক সম্মেলন-২০২৬ শেষ হয়েছে। ঘোষণাপত্রে ব্রিকস সদস্য ও সহযোগী দেশগুলির শিল্পীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি এবং চুরি বা বেআইনি উপায়ে বিদেশে চলে যাওয়া সাংস্কৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত সাংবাদিকদের জানান, তিন দিনের আলোচনা শেষে ‘ভোপাল ঘোষণাপত্র’ গৃহীত হয়েছে। ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন ও স্থায়িত্ব’ থিমে অনুষ্ঠিত ব্রিকস দেশগুলির সংস্কৃতি বিষয়ক ১১তম বৈঠকে ১৪টি দেশের ৫৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
প্রথমবারের মতো সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সময়সীমাবদ্ধ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে একটি অভিন্ন রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে ডিজিটাল উপাদানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সম্পদ ফিরিয়ে আনার জন্য নির্দিষ্ট উদ্যোগও রাখা হয়েছে।
ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল ভাবনা ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কৃতি বিষয়ক আলোচনায় বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া হয়। ব্রিকসের সাংস্কৃতিক সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করাই ‘ভোপাল ঘোষণাপত্র’-এর অন্যতম লক্ষ্য।
সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্প এবং সৃজনশীল অর্থনীতিতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, স্রষ্টাদের সহায়তা, পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বাজারে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করার বিষয় রয়েছে।
ইউনেস্কোর বহুজাতিক মনোনয়ন প্রক্রিয়ার আওতায় অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সাংস্কৃতিক সম্পদের উৎস অনুসন্ধান, পুনরুদ্ধার এবং নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।
ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ব্যবস্থা এবং প্রথাগত সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি সংরক্ষণকেও ঘোষণাপত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নথিভিত্তিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ডিজিটাইজেশন এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে জাদুঘর, গ্রন্থাগার ও আর্কাইভগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
কপিরাইট সুরক্ষিত সৃষ্টিকর্ম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্রষ্টাদের অধিকার, স্বচ্ছতা এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনে ভারত একটি পাইলট ‘ভলান্টারি আর্টিস্ট রেজিস্ট্রি’ চালুর ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে ব্রিকস দেশগুলির শিল্পী ও সৃজনশীল পেশাদারদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, পেশাগত যোগাযোগ এবং নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে। এই রেজিস্ট্রি প্রতিভাবান শিল্পীদের সংযুক্ত করার পাশাপাশি মানুষে-মানুষে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
সংস্কৃতি বিষয়ক আলোচনার পাশাপাশি মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে বহুপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে তিনটি কালচার ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি ২৯-৩০ এপ্রিল ভার্চুয়াল মাধ্যমে, দ্বিতীয়টি ৪-৫ জুন বারাণসীতে এবং তৃতীয়টি ৫-৬ আগস্ট ভোপালে অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিকসের অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে ছিল ব্রাজিল, চিন, মিশর (অনলাইনে), ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সহযোগী দেশ হিসেবে অংশ নেয় বেলারুশ, কিউবা, কাজাখস্তান এবং থাইল্যান্ড। ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সংস্কৃতিমন্ত্রীরা সশরীরে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন ব্রিকস সদস্য ও সহযোগী দেশগুলির মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক কাঠামো তৈরি করেছে।



















