বেলগাভি (কর্ণাটক), ৮ আগস্ট (আইএএনএস): বহু কোটি টাকার কথিত আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় শিবম অ্যাসোসিয়েটসের মালিক শিবানন্দ নীলান্নভারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জায়গায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তল্লাশি শনিবার দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে।
উত্তর কর্ণাটকের বেলগাভি শহরের শিববাসবনগরে অবস্থিত এমএস টাওয়ার প্রাঙ্গণে ইডির আধিকারিকরা এদিনও নথি ও অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখেন। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) নিরাপত্তায় এই তল্লাশি চলছে। অভিযানে গোয়া ও ম্যাঙ্গালুরুর ইডি-র দলও অংশ নিয়েছে।
শুক্রবার শুরু হওয়া নথি যাচাই ও অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করার কাজ শনিবারও চলে। তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া নথি এবং অন্যান্য উপকরণ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন আধিকারিকরা।
এই ঘটনায় বেআইনি অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগে ইডি একটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। মামলা দায়েরের পরই নীলান্নভারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডির দল তল্লাশিতে পৌঁছনোর সময় নীলান্নভার তাঁর বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী ও ভাইকে সেখানে নিয়ে আসা হয় এবং বাড়ি ও বিভিন্ন নথিপত্র বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা।
এর আগে কথিত আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় বেলগাভি জেলার তিনটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। শিববাসবনগরের এমএস টাওয়ার অ্যাপার্টমেন্ট, বাদাকুন্দ্রি গ্রামে নীলান্নভারের বাড়ি এবং চিক্কোডিতে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার সুভাষ নান্দারাগির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
শিবম অ্যাসোসিয়েটসকে ঘিরে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গোটা কর্ণাটকে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। সংস্থাটির বিরুদ্ধে ৪০ হাজারেরও বেশি বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৫ মে আকর্ষণীয় রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেআইনিভাবে আমানত সংগ্রহ ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার অভিযোগ ওঠার পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এরপর মামলা দায়ের করা হয় এবং নীলান্নভারকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, ৪০,৭০০-রও বেশি মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এর মধ্যে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা হয় এবং তাতে আনুমানিক ১৭০ কোটি টাকা ক্ষতি হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া নীলান্নভার বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
এবার কথিত আর্থিক অনিয়মের তদন্তে ইডি অর্থের গতিপথ এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন লেনদেন খতিয়ে দেখছে।



















